আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে ডিলারদের অনিয়ম ও সার পাচার বন্ধে জেলা-উপজেলায় মনিটরিং জোরদারের তাগিদ📰প্ল্যাটফর্ম চালুসহ ৩ দফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গার আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে অবরোধ📰জনগণের মতামত ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবেঃ এমপি রুহুল আমিন📰আলমডাঙ্গার ভাংবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ📰আলমডাঙ্গায় ৪৩ দিনে হত্যাসহ ২১ মামলা, গ্রেপ্তার অর্ধশতাধিক📰আলমডাঙ্গা পৌর উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরের দুটি কাঁঠালগাছের প্রায় সব পাতা কেটে বিক্রির অভিযোগ📰আলমডাঙ্গায় আসামি লিজু গ্রেফতার📰মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল হতে হবেঃ এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল📰দামুড়হুদার সুবুলপুরে ঐতিহ্যবাহী ডিঙ্গি নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত📰আলমডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগপ্ল্যাটফর্ম চালুসহ ৩ দফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গার আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে অবরোধ

প্ল্যাটফর্ম চালুসহ ৩ দফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গার আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে অবরোধ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করাসহ তিন দফা দাবিতে ট্রেন থামিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ করেন এলাকাবাসী। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন চত্বরে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে স্থানীয় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। অবরোধের কারণে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে আটকে পড়ে। এতে খুলনার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে আন্তনগর ও ঢাকাগামী কয়েকটি ট্রেন। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি দল, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনা হয়। দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়ার পর বেলা ১টা ২৫ মিনিটের দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছেÑঐতিহ্যবাহী আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে অন্তত দুজন স্টেশনমাস্টারসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ; আধুনিক প্ল্যাটফর্ম, বিশ্রামাগার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ স্টেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের উভয়মুখী যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা। আন্দোলনকারীরা জানান, বুধবার সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে পৌঁছালে তারা ট্রেনটির গতিপথ আটকে দেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুরু হওয়া অবরোধে ট্রেনটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে খুলনার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়। চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, দর্শনা ও কোটচাঁদপুর স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে যাত্রীরা আটকা পড়েন। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না পেয়ে অনেকের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অবরোধকারীদের ভাষ্য, চুয়াডাঙ্গার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন আনসারবাড়ীয়া। আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন এবং চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই স্টেশন। তাদের দাবি, স্টেশনটির ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা অর্ধলক্ষাধিক। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও দূরপাল্লায় মালামাল পরিবহনের কাজে স্টেশনটি ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত ট্রেনের যাত্রাবিরতির অভাবে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে যে ট্রেনগুলো স্টেশনে থামে, সেগুলোর একটি ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। সেখানে পর্যাপ্ত প্ল্যাটফর্ম না থাকায় যাত্রীদের নিচ থেকে উঁচুতে উঠে ট্রেনে ওঠানামা করতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ কারণে ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানো এবং সেখানে প্রয়োজনীয় প্ল্যাটফর্ম চালুর দাবিও জানিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও সুবিধা হবে। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে বারবার দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় তারা অবরোধের মতো কর্মসূচি নিতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ না নেয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
অবরোধের খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে রেলওয়ের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি ও জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। ইউএনওর পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে একটি দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান। আন্দোলনকারীদের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেল মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি দেয়ার পরামর্শও দেয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিজানুর রহমান জানান, আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন চালুর দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় তিন ঘণ্টা রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে রেখে আন্দোলন করেন। এতে খুলনার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি জানান, দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। এতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি দল দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছে।
কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম মোক্তার ও সাংবাদিক রাশেদুজ্জামান রাসেদসহ আন্দোলনরত নেতারা বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যে আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশনের দীর্ঘদিনের সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি উঠে আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ