আল আমিন হোসেন:
আলমডাঙ্গায় অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল ইসলাম। শুধু অপরাধীদের আইনের আওতায় আনাই নয়, সাধারণ মানুষের মনে পুলিশের প্রতি হারিয়ে যাওয়া আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেও কাজ করছেন তিনি। তার নেতৃত্বে মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। আলমডাঙ্গায় গত ৪৩ দিনে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে ২১টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব মামলায় অর্ধশতাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৩৫টি সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে ৪৫ জনকে।
থানা পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৩ দিনে আলমডাঙ্গা থানায় দায়ের হওয়া ২১টি মামলার মধ্যে রয়েছে তিনটি হত্যা, একটি অস্ত্র, একটি নারী ও শিশু নির্যাতন (অপহরণ), দুটি চুরি, ১০টি মাদক, তিনটি অন্যান্য এবং একটি অনলাইন জুয়া মামলা। পাশাপাশি পুলিশের অভিযানে মাদকসংক্রান্ত ১০টি মামলায় ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অস্ত্র উদ্ধার, হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও নিয়মিত মামলার পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রমেও তৎপরতা চালিয়েছে থানা পুলিশ। গত ৪৩ দিনে ৩৫টি সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ৪৫ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মামলার পাশাপাশি এ ধরনের বিচারিক কার্যক্রমও পরিচালনা করেছেন।
এদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মতে, ইতোমধ্যে ওসি রাকিবুল ইসলাম তার কার্যক্রমের মাধ্যমে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান ও ধারাবাহিক অভিযানে মাদক কারবারিদের মধ্যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে অভিযান অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আলমডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল ইসলাম বলেন, আলমডাঙ্গা থানাকে যেকোনো মূল্যে মাদকমুক্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। পুলিশ জনগণের বন্ধু, তবে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের জন্য কোনো ছাড় নেই। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা জনগণের পাশে থাকবে।


