নেহালপুর প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-সংলগ্ন নেহালপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটিতে ধাক্কা দিয়েছে একটি লরি। এতে খুঁটিটি ভেঙে সরাসরি লরির ওপর পড়ে। দুর্ঘটনায় লরির চালক ও তার সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এদিকে ভেঙে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি ও লরিটি সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে পড়ে থাকায় হিজলগাড়ি-ডিঙ্গেদহ সড়কের ওই অংশে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে দর্শনা থেকে ছেড়ে আসা লরিটি নেহালপুর এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় লরিটি সড়কের পাশে থাকা পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় খুঁটিটি ভেঙে লরির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে লরির কেবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চালক ও তার সহকারী ভেতরে আটকে পড়েন। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা কেবিনে আটকে থাকা রক্তাক্ত চালক ও সহকারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আহত দুজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর থেকে সড়কটির ওই অংশে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি ও দুর্ঘটনাকবলিত লরিটি সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে পড়ে থাকায় বড় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের কারণে আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও ভেঙে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি সরানো কিংবা সড়কটি ঝুঁকিমুক্ত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। এতে তাদের ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়ায় আটকা পড়া যানবাহনের চালকদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
দুর্ঘটনাকবলিত লরির মালিক কুষ্টিয়ার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক জানান, সড়কটি দ্রুত সচল করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে তারা নিজেদের উদ্যোগে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে ভেঙে পড়া বিদ্যুতের খুঁটির কারণে উদ্ধারকাজ এগিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।


