দামুড়হুদা অফিস:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বাড়ির শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় এক যুবকের গলা কেটে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ছয় দিন পর গত মঙ্গলবার রাতে তারিণীপুর এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি আহত যুবকের বড়ভাই হাসান আলীকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে ধারালো হাসুয়া দিয়ে ওই যুবকের গলায় আঘাত করেছিলেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন আসামি। গ্রেপ্তার হাসান আলী (২৭) দামুড়হুদা উপজেলার তারিণীপুর মাঠপাড়ার ইদ্রিস আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ফুলবাগানপাড়ায় বসবাস করছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার তারিণীপুর গ্রামের নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন পেশায় ফার্নিচারের রংমিস্ত্রি হোসেন আলী (২৩)। এ সময় দুর্বৃত্তরা শয়নকক্ষের দেয়ালের ইটের ফাঁকা জায়গা দিয়ে ধারালো অস্ত্র ঢুকিয়ে তার গলায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হোসেন আলীর বড় বোন শামসুন্নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা করেন। ২৮ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৩২৬ ও ৩০৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। ঘটনার পর থেকেই হামলাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে দামুড়হুদা মডেল থানা-পুলিশ। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহর তত্ত্বাবধানে এবং থানার অফিসার ইনচার্জ রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে দামুড়হুদা উপজেলার তারিণীপুর এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসান আলী হোসেন আলীর সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার কথা স্বীকার করেন। ঘটনার রাতে হোসেন আলী ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ধারালো হাসুয়া দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন বলে জানান তিনি। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে মেহেরপুরে চলে যান। গ্রেপ্তারের পর হাসান আলীকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রাসেল মিয়া জানান গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।


