ঢাকা অফিস:
আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে জাতীয় গ্রিডে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-বিপিডিবি বেসরকারি খাতের ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০.৫০ টাকা হারে সৌরবিদ্যুৎ কিনবে। বিপিডিবির নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, কুড়িগ্রাম, পাবনা এবং মৌলভীবাজারের রাজনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি স্থাপন করে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এ সুবিধা পেতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সোলার সিস্টেম স্থাপন করে নেট মিটারিংয়ের আওতায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ শুরু করতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী গ্রাহকরা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত এ সুবিধা পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের-আইআরডি ১৬ সেপ্টেম্বরের আদেশ অনুযায়ী, শিল্পে ব্যবহারের জন্য সোলারের যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে এসব যন্ত্রপাতি ১ শতাংশ শুল্কে আমদানি করা যাবে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্যান্য বাণিজ্যিক আমদানিকারকরাও দেশে উৎপাদিত কয়েকটি কম্পোনেন্ট ছাড়া সোলারের প্রায় সব যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ১ শতাংশ শুল্কে আমদানি করতে পারবেন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি বেশ কয়েকটি কোম্পানি। এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের নিজেদের জমি কিনতে হচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের বড় প্রকল্পের জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে পতিত জমি বরাদ্দ দেবে সরকার। ইতোমধ্যে ১২টি নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বেসরকারি কোম্পানি জমি বরাদ্দ চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় আবেদন করেছে। জমি বরাদ্দের প্রস্তাবে নানা ধরনের শর্ত যুক্ত করছে জেলা প্রশাসকসহ ভূমি মন্ত্রণালয়। অথচ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ এবং সৌরবিদ্যুতে প্রকল্পের সময় এমন শর্ত দেয়া হয়নি। সেই সময় যে যার মতো জমি নিয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে আমলারা। এর মধ্যে অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইমলাম বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিদের্শনা এবং ভূমিমন্ত্রী নির্দেশ মানছেন না, দিচ্ছেন নতুন নতুন শর্ত, যা আগামীতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হবে এবং সব জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে ছাদভিত্তিক সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে বিদ্যমান সংকটের অন্যতম কারণ চারটি। এগুলো হচ্ছে: দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধানের ঘাটতি, আমদানিনির্ভরতা, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ খাত এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়া। তবে সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে বড় দায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের। যারা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পুরোপুরি ডুবিয়ে দিয়েছে। লোডশেডিং কমিয়ে উৎপাদন বাড়ালেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সেক্টরকে একেবারে বিদেশ-নির্ভর করে ফেলে। এছাড়া পছন্দের লোকজনকে কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোর অনুমতি দিয়ে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্যাপাসিটি চার্জ হিসাবে দেয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বহু প্রতিষ্ঠানকে এই ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে গিয়ে দেশ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু। এছাড়া আওয়ামী লীগ আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরকে পুঁজি করে ব্যাপক লুটপাট ও দুর্নীতি করা হয়। যার ভয়াবহ ক্ষত এখন বেরিয়ে আসছে। আর খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের জনগণকে। এ সংকট মোকাবিলা করতে বিএনপি সরকারকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জানা গেছে, দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ও আমদানি-নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার বিকল্প গড়ে তুলতে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও এসব যন্ত্রপাতি তৈরির কাঁচামাল আমদানিতেও বড় ধরনের করছাড় দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বড় বিনিয়োগকারীদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে। গৃহস্থালি পর্যায়েও নেট মিটারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নেট মিটারিংয়ের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে স্বল্প সুদে ঋণ দিতে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করছে সরকার। এর মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও ভর্তুকির চাপ কমবে। বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। বিনিয়োগকারীদের নিজেদের জমি কিনতে হলে প্রকল্পের বিনিয়োগ ও বিদ্যুতের দাম দুটোই বাড়বে। এ কারণে সৌরবিদ্যুতের বড় প্রকল্পের জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে পতিত জমি বরাদ্দ দেয়া হবে। ইতোমধ্যে ১২টি নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাদসাধে কয়েকজন জেলা প্রশাসক এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইমলাম বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিদের্শনা এবং ভূমিমন্ত্রী নির্দেশ মানছেন না ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইমলাম। এদিকে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে চাওয়া আগে জমি বরাদ্দ দিত ডিসি ও ভূমিমন্ত্রণালয়। আর বর্তমানে নানা ধরনের নীতিমালায় আটকে দিচ্ছে এসব প্রকল্প। ডিসি অফিস থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে একটি নতুন নীতিমালা করার কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে কয়েকজন ডিসি প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে নীতিবাচক প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা চাই দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান করতে। তারা কী কারণে এমন প্রস্তাব দিয়েছে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। বিনিয়োগকারীদের নিজেদের জমি কিনতে হলে প্রকল্পের বিনিয়োগ ও বিদ্যুতের দাম দুটোই বাড়বে। তাই সৌরবিদ্যুতের বড় প্রকল্পের জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে সরকার জমি দেবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর তাদের পতিত জমির তালিকা জমা দিয়েছে। সব মন্ত্রণালয় মিলে প্রায় ৬০ হাজার একর জমির প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রায় ৩০০ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, সরকার জমি দেবে এবং বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন। জমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতাও বিবেচনা করা হচ্ছে। এক মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে আড়াই থেকে তিন একর জমি প্রয়োজন হয়। তবে জমির বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, জমির সংকটের কারণে নয়, ভালো ধারণা ও নীতিগত সমস্যার কারণে জ্বালানি রূপান্তর পিছিয়ে যাচ্ছে। জমি ছাড়াও সরকারের প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিকতাও জরুরি। একশ্রেণির ব্যবসায়ী চান না সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটুক এ দেশে। দেশের ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুৎ চলে গেলে সেটি তাদের জন্য লাভজনক হবে না বলেই, তারা এটি চান না। আগের সরকারগুলো সৌরবিদ্যুতের প্রসারে নানা কথা বললেও বাস্তবে কোনো কাজ এগোতে পারেনি। বর্তমান সরকার আবার নতুন করে উদ্যোগ নিচ্ছে। সংকট কাটাতে সৌরবিদ্যুৎ বেশ ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাঁচ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ এ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। তবে সৌরবিদ্যুতের বড় সমস্যা হচ্ছে. প্ল্যান্ট বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংকট। জমির সংস্থান করা না গেলে সব লক্ষ্যমাত্রাই পিছিয়ে যাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, দেশে চলমান জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজতে রাত-দিন কাজ করছে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল। এজন্য নানামুখী বৈঠক ও পর্যালোচনা অব্যাহত আছে। কীভাবে দেশে দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর চিন্তা করছে জ্বালানি বিভাগ। পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই মনিটরিং করছেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন এবং ৩টি এলএনজি টার্মিনাল বসিয়ে দেশে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হবে। এতে এ সময়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ৫০০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করতে চায় সরকার। বর্তমান গ্যাস সরবরাহ দেয়া হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এ হিসাবে ৪ বছরে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে দ্বিগুণ। একই সঙ্গে কয়লার উৎপাদন বাড়াতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ সেপ্টেম্বর সংসদে বলেন, বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা হবে। তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে, সে ব্যাপারে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন। তবে এ সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়। এটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুলনীতি ও অনিয়মের ফসল। তিনি বলেন, এ সমস্যা হঠাৎ তৈরি হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কিছু বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতের ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগ সরকার এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী। বিশেষ করে কোনোরকম যাচাই-বাছাই না করে বিশেষ আইনে বেসরকারি খাতে যেখানে-সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এখন সরকার এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কোনো আউটপুট পাচ্ছে না। কিন্তু ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে দুই লাখ ৮১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন।


