আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজমতামতসাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার

সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার




সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়, আর সংবাদ সংগ্রহের কারণে একজন সাংবাদিককে হামলার শিকার হতে হবেÑএমন পরিবেশ কোনোভাবেই একটি সুস্থ সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না। দামুড়হুদার সুবলপুর স্লুইসগেট এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক রাসেল উদ্দীনের ওপর হামলার অভিযোগ তাই শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদ সংগ্রহের অধিকার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিউজ সংগ্রহ করতে গিয়ে রাসেল উদ্দীন হামলার শিকার হয়েছেন। চাপাতি, লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মুখ, মাথা, ঘাড়, পিঠ, হাত ও পায়ে জখম হয়েছে। হামলার সময় স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়া এবং স্মার্টফোন ভেঙে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হামলার পর তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সত্য হলে তা নিঃসন্দেহে গুরুতর। কারণ একজন সাংবাদিক যখন কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠে যান, তখন তার হাতে থাকে কলম, ক্যামেরা বা মুঠোফোনÑঅস্ত্র নয়। কোনো সংবাদে কারও স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে তার প্রতিবাদের বৈধ পথ রয়েছে। সংবাদটি ভুল হলে প্রতিবাদ, তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন, সংশোধনের দাবি কিংবা প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেয়া যায়। কিন্তু সংবাদ প্রকাশ বা সংগ্রহের জেরে হামলা, ভয়ভীতি কিংবা প্রাণনাশের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আমাদের দায়িত্বশীলতাও জরুরি। এজাহারে যাদের নাম এসেছে, তাদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। অভিযোগের সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ, কারা এতে জড়িত এবং কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছেÑএসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে হবে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামলার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগে হামলার পাশাপাশি স্বর্ণের চেইন ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়ার যে কথা বলা হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল সাংবাদিক সমাজের দাবি নয় এটি নাগরিকের জানার অধিকার রক্ষারও অংশ। মাঠপর্যায়ে কাজ করা স্থানীয় সাংবাদিকেরা সাধারণত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই মানুষের নানা সমস্যা, অনিয়ম, অপরাধ ও জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরেন। তাদের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে শুধু একটি পেশাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যপ্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই সুবলপুরের ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন একটি মারামারির ঘটনা হিসেবে না দেখে সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা দরকার। পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে হবে। কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে তার সমাধান হতে হবে যুক্তি, তথ্য ও আইনের পথে। দামুড়হুদার এ ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তই এখন সবচেয়ে জরুরি। সত্য যা-ই হোক, সেটি যেন তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় এবং দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা যেন আইনের আওতায় আসেনÑএটাই প্রত্যাশা। কারণ সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু একজন রাসেল উদ্দীনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, এটি সমাজের সত্য জানার অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ রক্ষারও অঙ্গীকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ