আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজসম্পাদকীয়কেরুর কার্টন নিয়ে প্রশ্ন, জবাবদিহি কোথায়?

কেরুর কার্টন নিয়ে প্রশ্ন, জবাবদিহি কোথায়?




চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় দেশের ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। শত বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কার্টনের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠা এবং নিম্নমানের কার্টনভর্তি একটি ট্রাক ফেরত পাঠানোর ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। এর সঙ্গে কেবল একটি চালান গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের বিষয় জড়িত নয়, এর সঙ্গে জড়িত সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার মান। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগে মদ বোতলজাত করার পর তা বাজারজাত করতে কার্টন ব্যবহার করা হয়। প্রতিবছর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দরপত্রের মাধ্যমে কার্টন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়। এ বছর ঢাকার সাউথটেক কোম্পানি কার্টন সরবরাহের কাজ পেয়েছে। কিন্তু সরবরাহ শুরুর পর থেকেই কার্টনের মান নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একাধিকবার নিম্নমানের কার্টন সরবরাহ না করার জন্য সতর্ক করলেও অভিযোগ রয়েছে, সেই সতর্কতা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। সর্বশেষ একটি ট্রাকভর্তি কার্টন কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগে পৌঁছালে মান পরীক্ষা করে তা গ্রহণ না করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এখানেই প্রশ্নের শেষ নয়, বরং শুরু। একটি প্রতিষ্ঠান যখন দরপত্রের মাধ্যমে কোনো পণ্য সরবরাহের দায়িত্ব পায়, তখন তার সরবরাহ করা পণ্য দরপত্রের শর্ত ও নির্ধারিত মান অনুযায়ী হচ্ছে কী-না তা নিশ্চিত করার দায় যেমন সরবরাহকারীর, তেমনি ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানেরও। বিশেষ করে কেরুর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে সামান্য শৈথিল্যেরও সুযোগ নেই। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারখানায় গ্যাসসংকটের কারণে কার্টনগুলো কিছুটা নরম হয়েছে এবং দু-এক দিন গুদামে রাখলে তা ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কার্টন নরম হওয়ার কারণ যাই হোক, নির্ধারিত মান পূরণ না করা অবস্থায় তা কেন সরবরাহ করা হলো? আর সরবরাহ করা পণ্য যদি নির্ধারিত মানের না হয়, তাহলে তা গ্রহণের প্রশ্নই বা আসে কীভাবে? দরপত্রের শর্তে পণ্যের মান, স্থায়িত্ব ও ব্যবহারযোগ্যতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকার কথা। সেই নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সেটিই আগে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপকও জানিয়েছেন, সরবরাহ করা কার্টনের মান ভালো না হওয়ায় তা গ্রহণ করা হয়নি। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কারণ নিম্নমানের পণ্য গ্রহণ না করে ফেরত পাঠানোই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার প্রথম শর্ত। তবে এখানেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং এখন প্রয়োজন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যে কার্টন একবার নিম্নমানের বিবেচনায় ফেরত পাঠানো হয়েছে, সেগুলো পরবর্তী সময়ে কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে? একই কার্টন কি কোনো সংশোধন বা পরিবর্তনের নামে আবার সরবরাহ করা হবে? নাকি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে পুরো চালানই ফেরত নিতে হবে? নতুন করে সরবরাহের ক্ষেত্রে আগের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে? এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন। এখানে কেরুর নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থাকেও প্রশ্নের বাইরে রাখা যায় না। নিম্নমানের কার্টন নিয়ে যদি সত্যিই সরবরাহ শুরুর পর থেকেই অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে এতদিন তা চলল কেন? একাধিকবার সতর্ক করার পরও একই ধরনের কার্টন সরবরাহের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো? মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে সরবরাহ করা পণ্য পরীক্ষা করছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ক্রয়প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় বিষয় হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। একটি পণ্য সরবরাহের দরপত্রে যে প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে, তাকে নির্ধারিত মান বজায় রাখতেই হবে। কোনো কারণে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা হলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিত। প্রয়োজনে জরিমানা, চালান বাতিল কিংবা ভবিষ্যৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বিধিসম্মত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকলে সেটিও প্রয়োগ করতে হবে। তবে সবকিছুই হতে হবে নিয়ম ও প্রমাণের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি পক্ষপাত ছাড়া। কার্টন হয়তো কেরুর উৎপাদিত মূল পণ্য নয়, কিন্তু উৎপাদিত পণ্য নিরাপদে সংরক্ষণ ও বাজারজাত করার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কম নয়। নিম্নমানের কার্টন পরিবহনের সময় ছিঁড়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পণ্য নষ্ট হতে পারে, আর্থিক ক্ষতি হতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনামও ক্ষুণ্ন হতে পারে। বড় পরিসরে দেখলে এর প্রভাব পড়তে পারে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর। তাই এই ঘটনার একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তি প্রয়োজন। কেরু কর্তৃপক্ষের উচিত সরবরাহ করা কার্টনের নমুনা নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা, দরপত্রের শর্তের সঙ্গে সরবরাহকৃত কার্টনের মান মিলিয়ে দেখা এবং কোথায় ঘাটতি হয়েছে তা চিহ্নিত করা। একই সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যাও যাচাই করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ক্রয় কমিটি, মান যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। আমরা মনে করি, নিম্নমানের কার্টন ফেরত পাঠানোই শেষ কথা হতে পারে না। এটি একটি সতর্কবার্তা। কেরুর মতো ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি সরকারি অর্থের ব্যয়, প্রতিটি ক্রয় এবং প্রতিটি সরবরাহের ক্ষেত্রে কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। দরপত্রের শর্ত কাগজে থাকলেই হবে না; বাস্তবেও তার যথাযথ প্রয়োগ থাকতে হবে। কেরু অ্যান্ড কোম্পানি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি দেশের রাষ্ট্রীয় শিল্প ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ক্রয় ও সরবরাহব্যবস্থা হতে হবে স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক। নিম্নমানের পণ্য যেন কোনোভাবেই সরকারি প্রতিষ্ঠানের দরজায় ঢোকার সুযোগ না পায়, আবার অভিযোগের আড়ালে যেন কোনো বৈধ সরবরাহকারীও হয়রানির শিকার না হন দুই দিকই নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দায় থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে, আর কেরুর অভ্যন্তরীণ তদারকিতে কোনো দুর্বলতা থাকলে সেটিও সংশোধন করতে হবে। কারণ রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা ও একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ