নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের মাছেরদাইড় গ্রামে ছাগল পালনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে উপকারভোগী নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জাত সংরক্ষণ, নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, ছাগলের রোগবালাইয়ের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সচেতন করা হয় উপকারভোগীদের। গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মাছেরদাইড় গ্রামে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘রিসো’ বাস্তবায়িত ‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে উন্নত মাচাঘরে ছাগল পালন কর্মসূচি’র আওতায় এ আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনের মাধ্যমে দেশীয় উন্নত জাত সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ছাগল পালনের মাধ্যমে কীভাবে নারীরা নিজেদের আয়-রোজগারের সুযোগ তৈরি করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ছাগলের বিভিন্ন রোগবালাই, রোগের প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করা এবং প্রাথমিকভাবে কী ধরনের চিকিৎসা ও পরিচর্যা প্রয়োজন, সে বিষয়েও উপকারভোগীদের ধারণা দেয়া হয়। সঠিক পরিচর্যা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে ছাগল পালনকে লাভজনক ক্ষুদ্র উদ্যোগে পরিণত করার বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়।
আলোচনায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিকও তুলে ধরা হয়। বাল্যবিবাহের কারণে নারী ও কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কীভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, সে বিষয়ে উপস্থিত নারীদের সচেতন করা হয়। পরিবার ও সমাজে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণী চিকিৎসক পি.সি. কামাল হোসেন, রিসোর প্রোগ্রাম অফিসার সাধন কুমার কর, কর্মসূচির ১৪ জন উপকারভোগী নারীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
রিসো সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচির আওতায় মাছেরদাইড় গ্রামে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ১৪ জন নারীকে ছাগল পালনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে উন্নত মাচাঘরে ছাগল পালনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ১৪টি উন্নত মাচাঘর নির্মাণ করে দেওয়ার পাশাপাশি মোট ২৮টি ছাগল প্রদান করা হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য শুধু ছাগল বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নারীদের একটি টেকসই আয়ের উৎসের সঙ্গে যুক্ত করে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পিতভাবে ছাগল পালন করতে পারলে এসব নারী ভবিষ্যতে নিজেরাই উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতায় অবদান রাখতে পারবেন।


