নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার বিচার বিভাগীয় বিভিন্ন আদালতে পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত সব সরকারি আইন কর্মকর্তার নিয়োগ আদেশ বাতিল করে নতুন করে সরকারি আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে সরকারি কৌঁসুলি (জিপি), পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), অতিরিক্ত জিপি-এপিপি এবং সহকারী আইন কর্মকর্তার পদে নতুন নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের (জিপি-পিপি শাখা) গতকাল মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তাদের অবিলম্বে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারা এবং ১৯৬০ সালের ‘লিগ্যাল রিমেম্ব্রান্সার্স ম্যানুয়াল’-এর সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী সরকারের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এসব নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগে নিয়োগপ্রাপ্ত সব সরকারি আইন কর্মকর্তার নিয়োগ আদেশ বাতিল করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) হিসেবে অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবুকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর পদে অ্যাডভোকেট মুন্সি শাহাজাহান মুকুল এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর পদে আ.স.ম. আব্দুর রউফকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পারিবারিক আপিল আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান বদি এবং অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে অ্যাডভোকেট সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম দায়িত্ব পেয়েছেন। জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি পদে অ্যাডভোকেট এস.এম. আসাদুজ্জামান গনি সালাম ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ হেদায়েত হোসেন আসলামকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম-১, অ্যাডভোকেট এস.এন.এ হাসেমী, অ্যাডভোকেট আহসান আলী, অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ এবং অ্যাডভোকেট আফরোজা আক্তার। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) পদেও নতুন করে পাঁচজন আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা হলেন অ্যাডভোকেট আলী হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন এরশাদ, অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট এস.এম. হুমায়ুন কবীর ও অ্যাডভোকেট সেলিনা খাতুন। এছাড়া সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদে ১৮ জন আইনজীবী নিয়োগ পেয়েছেন। তারা হলেন মঈন উদ্দীন মঈনুল, মানজার আলী জোয়ার্দ্দার হেলাল, এস.এম. সাইদুজ্জামান গনি টোটন, জিল্লুর রহমান জালাল, আসাদুজ্জামান মিল্টন, মাসুদুর রহমান, ফারজ আলী, মশিউর রহমান পারভেজ, রুবিনা পারভীন রুমা, শাহাজামাল জামাল, জহুরুল ইসলাম, হাসানুজ্জামান, আশরাফুল হক উজ্জ্বল, শাহরিয়ার নেওয়াজ অতি, আব্দুস সালাম মুক্তা, আতিয়ার রহমান-২, ওহিদুজ্জামান মুকুল ও মেহেদী হাসান নয়ন।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। পরবর্তী সময়ে আদেশ পুনর্বিবেচনা বা নতুন কোনো আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তারা স্ব স্ব পদে দায়িত্ব পালন করবেন। একসঙ্গে জেলার বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে সরকারি আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের এই সিদ্ধান্তে চুয়াডাঙ্গার বিচার অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হলো। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনা ও বিচারিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে।


