নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় মাদকবিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবন ও মাদকদ্রব্য রাখার অভিযোগে নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ৭৫ গ্রাম গাঁজা ও ছয়টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সামারি ট্রায়াল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য গতকাল শুক্রবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসআই সজীব আহামেদের নেতৃত্বে একটি দল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। প্রথমে কোর্ট মোড়ের পুরোনো গেটের সামনে থেকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় আকাশ (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় এলাকার মৃত লাল্টু হোসেনের ছেলে। একই কর্মকর্তা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বড় বাজারের সামনের পাকা সড়ক থেকে রিকন আলী (৪৩) নামের আরেক ব্যক্তিকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করেন। তিনি সদর উপজেলার শেখপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সেলিমের ছেলে। পরে দৌলতদিয়াড় পুরোনো সেতুর পূর্ব পাশে পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে আলিফ হোসেন (২০) নামের আরেক যুবককে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাগুরপাড়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় তার নানার বাড়িতে থাকতেন।
এদিকে এসআই নওশাদ মাহফুজের নেতৃত্বে সরোজগঞ্জ ক্যাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে জালশুকা গ্রামের একটি মাছের ঘেরের পশ্চিম পাড় থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন জালশুকা মাঠপাড়ার রেজাউল (৪১), সাগর আলী (৩২) ও ছলেমান আলী (৪২)। তাদের কাছ থেকে ছয়টি অবৈধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে উদ্ধার করা ট্যাবলেট জব্দতালিকা অনুযায়ী জব্দ করা হয়। অন্যদিকে এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে সদর থানার দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাফায়েত হোসেন (৪০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বসতঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৭৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এছাড়া সদর ফাঁড়ি পুলিশের পৃথক অভিযানে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআই আকরাম খানের নেতৃত্বে থানা কাউন্সিলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহবাজ আহম্মেদ নিশান (২৬) নামের এক ব্যক্তিকে তার পিতার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, তাকে মাদক সেবনের পর নেশাগ্রস্ত ও অসংলগ্ন কথাবার্তা বলা অবস্থায় পাওয়া যায়। একই কর্মকর্তা ঈদগাহ রোড কলেজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে খন্দকার ইমরান হোসেন লেবু (৪০) নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন। তাকেও মাদক সেবনের পর নেশাগ্রস্ত ও বেসামাল অবস্থায় পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাঁজা সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার আকাশ, রিকন আলী, আলিফ হোসেন, শাহবাজ আহম্মেদ নিশান ও খন্দকার ইমরান হোসেন লেবুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় সামারি ট্রায়াল প্রসিকিউশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপরদিকে ৬টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার রেজাউল, সাগর আলী ও ছলেমান আলীর বিরুদ্ধে একই আইনের ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় এবং ৭৫ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার সাফায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার নয়জনকে সামারি ট্রায়াল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে মাদক ও চোরাচালানসহ অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিস্তার রোধে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।


