নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি দেশের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার। দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন মাছ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেন। জেলা প্রশাসক বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব মাছের সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নদী-নালা, খাল-বিলসহ প্রাকৃতিক জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই মৎস্য চাষ সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও বাড়বে। তবে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; মাছের গুণগত মান বজায় রেখে নিরাপদ মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করাও জরুরি।
মৎস্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, বিশ্বের প্রায় সব মানুষই মাছ খায়। অঞ্চলভেদে মাছ খাওয়ার পদ্ধতিতে ভিন্নতা থাকলেও মানুষের খাদ্যতালিকায় মাছের গুরুত্ব ব্যাপক। মাছ অত্যন্ত পুষ্টিকর ও উপকারী খাদ্য। বাংলাদেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। মৎস্য চাষের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি মানুষের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সহকারী পরিচালক সরোজ কুমার মিস্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ধুতুরহাটের মৎস্য চাষি সালাউদ্দিন, গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মৎস্য চাষি ইকরামুল হক ইকরা ও অন্যান্য মৎস্য চাষি। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জেলা মৎস্য কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোস্তাফিজুর রহমান।
আলোচনা সভা শেষে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। ভিক্টোরিয়া জুবলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারোন্য ইমতিয়াজ ও আল আরাফাত তাহামিন হোসেনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন এলাকার মৎস্য চাষি, মৎস্যজীবী, মৎস্য আহরণকারীসহ মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের অংশগ্রহণে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের সমাপনী আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।


