সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া দারুন কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর বিদায় নিয়েছেন মুহতামিম হাফেজ আবু মুসা। তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান ও নিষ্ঠার প্রতি সম্মান জানাতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠান। বিদায় উপলক্ষে তাকে সম্মাননা হিসেবে একটি মোটরসাইকেল ও নগদ ৩ লাখ টাকা উপহার দেয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শুভাকাক্সক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন কুতুবপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রউফ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে হাফেজ আবু মুসা মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। তার দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নানা অর্জন ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বক্তারা তার অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানে টানা ২৮ বছর দায়িত্ব পালন করা শুধু চাকরির সময়কাল নয়, এটি একটি দীর্ঘ সাধনা ও ভালোবাসার গল্প। তার নিষ্ঠা, শ্রম ও আন্তরিকতা মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিদায় অনুষ্ঠানে হাফেজ আবু মুসাকে সম্মানার্থে একটি মোটরসাইকেল ও নগদ ৩ লাখ টাকা উপহার দেয়া হয়। উপহার তুলে দেয়ার সময় উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভাকাক্সক্ষীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার আবু ইউছুফ, কুতুবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা খবীর উদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান ফিটন, সরোজগঞ্জ বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম আশরাফুল হক এবং মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র ইসমাইল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভাকাক্সক্ষীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা হাফেজ আবু মুসার দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করেন। বিদায়ের মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিনের পরিচিত শিক্ষক ও অভিভাবকসদৃশ মুহতামিমকে বিদায় দিতে গিয়ে অনেকের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উপস্থিত সবার মধ্যে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।


