নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে তিন দিনব্যাপী জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’র উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ এবং নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সরোজ কুমার মিস্ত্রির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার।
আলোচনা সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজা জেলার মৎস্য খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ আসে মৎস্য খাত থেকে। চুয়াডাঙ্গায় মাছ উৎপাদনে সম্ভাবনা থাকলেও জেলার চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি রয়েছে। তিনি জানান, চুয়াডাঙ্গায় প্রায় ৫ হাজার ৪২২ হেক্টর জলায়তন রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেলায় মাছ উৎপাদিত হয়েছে ২১ হাজার ৬১৫ মেট্রিক টন। তবে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ৪৫৬ মেট্রিক টন। জেলায় মূলত কার্পজাতীয় মাছের চাষ বেশি হয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে গত পাঁচ বছর চুয়াডাঙ্গায় মৎস্য খাতের উন্নয়নে কোনো প্রকল্প না থাকায় এ খাতের কাক্সিক্ষত অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, মৎস্য খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। এই খাতকে আরও আধুনিক ও টেকসই করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাছ চাষিদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মৎস্য চাষের জন্য যে পরিমাণ সার প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী চাহিদা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে মাছের খাবারের মানের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ধরনের ভেজাল খাদ্য মাছকে দেয়া যাবে না। বেকার তরুণদের মৎস্য চাষে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, আমাদের অনেক তরুণ চাকরিহীনতায় বেকার অবস্থায় আছে। তারা ইচ্ছা করলে মৎস্য অধিদপ্তর কিংবা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহায়তায় প্রশিক্ষণ নিয়ে মৎস্য চাষ করতে পারে। এতে তরুণ ও বেকার যুবকেরা স্বাবলম্বী হতে পারবে। তিনি জেলার মৎস্য চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাতীয় মৎস্য পক্ষের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে অবৈধ জাল ব্যবহার এবং মা মাছ ধরা বন্ধে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
আলোচনা সভা শেষে চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলার সফল ও আদর্শ মৎস্য চাষিদের মধ্য থেকে চারজন শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষিকে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়। মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ সম্মাননা দেয়া হয়। পরে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ পার্কসংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। নদীর পানিতে পোনা অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির বার্তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক উজ জামান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা মার্কেটিং অফিসার শহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন এবং পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি। মৎস্য পক্ষের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মৎস্য চাষি, মৎস্যজীবী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন।
দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে, ‘রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও সফল মৎস্য চাষিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন। প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে ফিরে আসে। পরে মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এরপর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, মাছ মানুষের আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস। দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নদী-খাল, বিল ও জলাশয় সংরক্ষণের পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। মৎস্য খাতের উন্নয়ন এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষের পরিধি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মৎস্য চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি অবৈধভাবে মাছ শিকার, পোনা নিধন ও জলাশয় ধ্বংসের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, মাছের নিরাপদ ও মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করাও জরুরি। জলাশয় ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় পর্যায়ে মৎস্য চাষে বিশেষ অবদান রাখায় সফল উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার ও পদক দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান যুদ্ধও রয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতের আমির নায়েব আলী, উপজেলা সেক্রেটারি আবেদ উদ দৌলা টিটন, সহকারী সেক্রেটারি আবুল বাশার, মৎস্য চাষি, মৎস্যজীবী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে নদীতে পোনা অবমুক্ত করছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল: ছবি খাসখবর
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, ‘রূপালী মৎস্য, স্বনির্ভর দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, আলোচনা সভা ও মৎস্য চাষিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এরপর উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়াম কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল আমিন বলেন, আমাদের জাতিকে বলা হয় মাছে-ভাতে বাঙালি। খাবারের তালিকায় মাছ অপরিহার্য। মাছ আমাদের শরীরের আমিষের চাহিদা পূরণ করে। তিনি বলেন, মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ চাষ ও আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম এবং বদ্ধ জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। দেশের মৎস্য খাতের এই অর্জনকে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি মাছ চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। মৎস্য চাষিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের মাছ চাষিরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই সাফল্য ধরে রেখেছেন। তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
অনুষ্ঠানে সার সঙ্কটের বিষয়টিও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে রুহুল আমিন বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে সার সঙ্কট নিয়ে অনেকেই কথা বলেছেন। আমি মাননীয় কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। যেসব জেলার কৃষিজমি বর্ষা মৌসুমে ডুবে যায়, সেসব জেলার বরাদ্দের সার কর্তন করে আমাদের জেলায় দেয়ার দাবি জানিয়েছি। মৎস্যজীবীরা যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পান, সে বিষয়েও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন তিনি। মাছ চাষকে লাভজনক ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, মৎস্যজীবীরা মাছ চাষের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িতদের আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জীবননগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখের সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নুর আলম। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেকার রহমান, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলাইমান শেখ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির শাখাওয়াত হোসেন ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান আলী।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জীবননগর উপজেলায় মাছ চাষে বিশেষ অবদান রাখায় তিন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়। সম্মাননা পান মৎস্য চাষি মোসলেহ উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম এবং মাধবপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, মৎস্য চাষি এবং মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে মেহেরপুরে র্যালি, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে র্যালিটি শুরু হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদের নেতৃত্বে র্যালিটি বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভুবন চন্দ্র হালদার, মেহেরপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ইনজামামুল হক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক সেক্রেটারি কাজী রুহুল আমিন, জেলা জাসাসের সদস্যসচিব বাকা বিল্লাহসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বেলুন উড়িয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করা হয়। এরপর সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৎস্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরে উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়।


