জীবননগর অফিস:
জীবননগর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আলী আজমের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে প্রায় এক বছর ধরে মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত, ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ বুধবার দিবাগত রাতে ওই গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে আটক করলেও পরে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর দাবি, সাবেক কাউন্সিলর আজম দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে কল ও মেসেজ দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি তিনি আগেই তার স্বামী ও কয়েকজন প্রতিবেশীকে জানিয়েছিলেন। আজম প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি বলে দাবি করেন গৃহবধূর স্বামী। গৃহবধূ বলেন, আজম আমাকে প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনে কল দিত। আমি কল কেটে দিলে মেসেজ পাঠাত। আমি তাকে বলেছি, আপনি আমার আব্বার সঙ্গে একসঙ্গে নামাজ-কালাম পড়েছেন, আপনি আমার আব্বার মতো। আমার দিকে কোনো নজর দেবেন না। তার অভিযোগ, একপর্যায়ে আজম জোর করে তার হাত ধরে রেখেছিলেন। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে তার স্বামী ও সন্তানকে ক্ষতি এমনকি হত্যার হুমকি দেয়া হয়।
বুধবার দিবাগত রাতে আজম ওই গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করলে আগে থেকে বিষয়টি জানিয়ে রাখায় গৃহবধূর স্বামী ও প্রতিবেশীরা তাকে ঘরে আটক করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে তাকে মারধর করে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের মধ্যস্থতায় আজম কৌশলে সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আল-আমিন বলেন, বুধবার রাতে সাবেক কমিশনার আজম লিটন খানের চাতালের পেছনে জনৈক গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করেন। গৃহবধূ আগে থেকেই বিষয়টি আমাদের জানিয়ে রেখেছিলেন। পরে আমি ও কয়েকজন প্রতিবেশী এবং তার স্বামী মিলে তাকে হাতেনাতে আটক করি। পরে তিনি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী অর্জুন আলী দাবি করেন, এর আগেও বেশ কয়েক বছর আগে আজমকে অন্য এক গৃহবধূর ঘরে ধরা হয়েছিল। সেবারও তিনি কৌশলে সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।
গৃহবধূর স্বামী বলেন, আমার স্ত্রীকে সে আগে থেকেই বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। স্ত্রী আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিল। কিন্তু সে প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা কিছু করতে পারিনি। সে আমার স্ত্রীকে ভয় দেখিয়ে বলেছে, এসব ঘটনা কাউকে জানালে আমাকে ও আমার সন্তানকে মেরে ফেলবে। এদিকে, গৃহবধূ তার মোবাইল ফোনে সাবেক কাউন্সিলর আজমের পাঠানো বিভিন্ন মেসেজের প্রমাণ দেখিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আলী আজমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার বাড়িতে গিয়ে বক্তব্য চাইলে পরিবারের সদস্যরা জানান, আজম বাড়িতে নেই তিনি গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় গৃহবধূ বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কী-না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য আরও স্পষ্ট হবে।


