আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগঝিনাইদহে ছয় মাসে ১৮৯ জনের আত্মহত্যা

ঝিনাইদহে ছয় মাসে ১৮৯ জনের আত্মহত্যা




ঝিনাইদহ অফিস:

ঝিনাইদহে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জেলার ছয় উপজেলায় অন্তত ১৮৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। তাদের মধ্যে ৯২ জন পুরুষ ও ৯৭ জন নারী। গত বছরের একই সময়ে আত্মহত্যা করেছিলেন ১২৫ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে ৬৪টি বা প্রায় ৫১ শতাংশ।
মানবাধিকার সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কালেকটিভ (আরডিসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংস্থাটির নির্বাহী প্রধান মো. আব্দুর রহমান জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকার আত্মহত্যার ঘটনা সংগ্রহ ও যাচাই করে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য জেলা সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের তথ্যসহ বিভিন্ন সূত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আরডিসির তথ্য অনুযায়ী, ছয় উপজেলার মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। প্রথম ছয় মাসে এ উপজেলায় ৩০ জন পুরুষ ও ২৯ জন নারীসহ মোট ৫৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। শৈলকূপায় ১৮ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারীসহ ৪৪ জন, হরিণাকুণ্ডুতে ১০ জন পুরুষ ও ১৫ জন নারীসহ ২৫ জন এবং কালীগঞ্জ ও মহেশপুরে মোট ২০ জন আত্মহত্যা করেছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঝিনাইদহে ৫৭ জন পুরুষ ও ৬৮ জন নারীসহ মোট ১২৫ জন আত্মহত্যা করেছিলেন। চলতি বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা বেড়ে ১৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আত্মহত্যার পেছনে কোনো একক কারণকে দায়ী করা যায় না। আর্থিক সংকট, আয়-রোজগারের অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ, পারিবারিক কলহ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, হতাশা ও মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। আত্মহত্যার ঘটনাগুলোর মধ্যে গলায় ফাঁস ও বিষপানের ঘটনা বেশি।
তাদের মতে, করোনাকাল ও পরবর্তী সময়ে ঝিনাইদহে পুরুষের আত্মহত্যার প্রবণতাও বেড়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পুরুষদের আত্মহত্যার হার ৪৩ থেকে ৪৪ শতাংশের মধ্যে থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে ৪৭ শতাংশের বেশি হয়েছে বলে আরডিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়। একই সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির একসঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন কামরুজ্জামান বলেন, আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা উদ্বেগের বিষয়। মানুষের আবেগ, মানসিক চাপ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা এ ধরনের ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কাউন্সেলিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তরুণ ও অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাঁদের মানসিক সংকট সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন।
আরডিসির নির্বাহী প্রধান আব্দুর রহমান বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক সংকটে থাকা মানুষের জন্য কাউন্সেলিং ও প্রাথমিক সহায়তার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, আত্মহত্যা বৃদ্ধির জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করা যায় না। মাদকাসক্তি, পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট নারী বিষয়ক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক নাটক তৈরি করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রদর্শনের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শুধু আত্মহত্যার পরিসংখ্যান প্রকাশ নয়, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের আগেই শনাক্ত করা, পরিবারে সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি, সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কাউন্সেলিং নিশ্চিত করা জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ সামাজিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ