দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের তারিনীপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়েছে সোনাজুলের পরিবার। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য, পোশাক, লেপ-তোশক, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে গেছে। আগুনের তীব্রতায় পরিবারের সারা জীবনের সঞ্চয় ও সহায়-সম্বল মুহূর্তেই ছাই হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন। সকাল ১০টার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সোনাজুল ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিনগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে তারিনীপুর গ্রামের আব্দুল ওদুদের ছেলে সোনাজুলের বাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ভয়াবহতা টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হলেও আগুনের তীব্রতায় ঘরের কোনো মালামালই রক্ষা করা যায়নি। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানোর আগেই গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে পানি ও অন্যান্য উপায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে আগুন আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়। তবে আগুনে সোনাজুলের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্রের পাশাপাশি মজুত করা খাদ্যশস্য, পরিধেয় পোশাক, লেপ-তোশকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে গেছে। ঘরে থাকা নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও আগুনের গ্রাসে চলে যায়। সব হারিয়ে পরিবারটি এখন কার্যত অসহায় অবস্থায় পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন তাদের ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে শুকনো খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেন। সরকারি তহবিল থেকে যাতে পরিবারটিকে আরও বড় পরিসরে পুনর্বাসন সহায়তা দেয়া যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। দুর্যোগের পরপরই প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সোনাজুল ও তার পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও গ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


