দর্শনা অফিস/নেহালপুর প্রতিনিধি:
দর্শনা পৌর এলাকার আকুন্দবাড়িয়াকে মাদকমুক্ত করার চলমান উদ্যোগের মধ্যেই ইয়াবাসহ এক যুবককে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদক নির্মূল কমিটির নেতাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত কয়েকজনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আকন্দবাড়িয়ার রাঙ্গিয়ারপোতা ফার্ম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আকন্দবাড়িয়া বটতলা বাজার চত্বরে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে দর্শনা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে ইয়াবাসহ আটক এনামুল হক ইমামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার এনামুল হক ইমাম আকন্দবাড়িয়া গাংধারপাড়ার আলী আহম্মদের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকন্দবাড়িয়াকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রায় দেড় মাস ধরে স্থানীয় যুবসমাজ ও গ্রামবাসী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভাসহ নানা কর্মসূচির পাশাপাশি যুবকদের উদ্যোগে গঠন করা হয়েছে মাদক নির্মূল কমিটি। কমিটির নেতাদের দাবি, পুলিশের সহযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় এলাকায় মাদক কেনাবেচা আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে। তবে মাদক বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় রাঙ্গিয়ারপোতা ফার্ম এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সময় এনামুল হক ইমামকে আটক করা হয় বলে দাবি কমিটির নেতাদের। তাদের ভাষ্য, আটকের সময় ইমামের কাছ থেকে তিন পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টি দর্শনা থানা-পুলিশকে জানানো হয়। মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যরা ইমামকে আকন্দবাড়িয়া বটতলা বাজার চত্বরে নিয়ে এলে সেখানে তার ভাইপোসহ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন কমিটির নেতারা। এ হামলায় আকন্দবাড়িয়া মাদক নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মুন্নাফ মুন্না, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়েম তুষার ও সদস্য লাল্টুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন আকন্দবাড়িয়া স্কুলপাড়ার সানজির (২০), ফার্মপাড়ার নাঈম (২১) ও মাঝপাড়ার রকি (৩০)। কমিটির পক্ষ থেকে আট থেকে নয়জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। আহত লাল্টুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় ইমামের পরিবারের পক্ষ থেকেও পাল্টা হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের হামলায় এনামুল হক ইমাম, রতনের ছেলে তানজিল, ইকরামুলের স্ত্রী পারভিনসহ তাদের পক্ষের চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনকেও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ফলে ইয়াবাসহ ইমামকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আকন্দবাড়িয়া মাদক নির্মূল কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সায়েম তুষার বলেন, তারা সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় আকুন্দবাড়িয়াকে মাদকমুক্ত করার চেষ্টা করছেন। এ কার্যক্রম থেকে তারা পিছপা হবেন না। তার দাবি, মাদক কারবারীরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা তাদের কাউকে মারধর করিনি। তাদের মারধরের অভিযোগও সত্য নয়। কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মুন্নাফ মুন্না ও যুগ্ম আহ্বায়ক সায়েম তুষার বলেন, মাদক কারবারীরা কখনোই সাধারণ মানুষের চেয়ে শক্তিশালী নয়। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা মাঠে থাকবেন। কোনো ধরনের হামলা বা হুমকিতে তারা ভয় পাবেন না।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মাদক নির্মূল কমিটি ও মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে মারামারি হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। ওসি বলেন, ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয় বেরিয়ে আসবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। তিনি জানান, ইয়াবাসহ এনামুল হক ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার রাত পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগ করেনি। ওসি আরও জানান, আটক ইমামের ভাইপো সাগরের ছেলে তানজিলকে (২১) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে দর্শনা থানায় নেয়া হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।


