দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গা থেকে দর্শনায় প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলগেট এলাকার দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড় পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী, যাত্রী, মোটরসাইকেল চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়।
জানা গেছে, দর্শনা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখের সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে থাকায় এলাকাটি অনেকটা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। ময়লা-আবর্জনা পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোয় ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো। বিশেষ করে রোদ ও গরমের সময় দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠত। পথচারীদের অনেকে বাধ্য হয়ে নাকে রুমাল চেপে ওই এলাকা পার হতেন। বিষয়টি দর্শনা পৌর প্রশাসক ও দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলমের নজরে আসে। পরে তিনি পৌরসভার প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর ময়লার ভাগাড়টি দ্রুত পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে পুরো স্থানটি পরিষ্কার করার কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় পথচারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে ময়লা জমে থাকায় এ পথে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় পথচারীদের দ্রুত ওই স্থান পার হতে হতো। বিশেষ করে দুপুরের পর এবং গরমের দিনে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠত। দীর্ঘদিন পর ময়লা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং পৌর কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানান। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, দর্শনায় প্রবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে থাকলেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি। শুধু একবার পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে তারা মনে করেন। ভবিষ্যতে যাতে ওই স্থানে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, দর্শনা শহরে প্রবেশের এই স্থানটি শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের পথ নয়; প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। ফলে প্রবেশমুখটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা শহরের সৌন্দর্য ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
দর্শনা পৌর প্রশাসক ও দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসার পর সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে জায়গাটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করার চেষ্টা চলছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পৌর সচিব সাজেদুল আলম, করনির্ধারক জাহিদুল ইসলাম, প্রধান সহকারী শাহ আলম, হিসাবরক্ষক আরেফিন হোসেন ও কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর মমিনুল ইসলাম।


