দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় লিজ নেয়া জমিতে গড়ে তোলা মাল্টাবাগান থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের মাল্টা জোরপূর্বক পেড়ে নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাগানচাষি দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা রামনগর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মুকুল উদ্দীন ২০২১ সালে কালিদাসপুর গ্রামের খোকাই হালসানার ছেলে ফকির হালসানার কাছ থেকে ১০ বছরের জন্য একটি জমি লিজ নেন। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০৩১ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত জমিটি তার লিজে থাকার কথা। লিজ নেয়ার পর মুকুল উদ্দীন নিজ অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে সেখানে একটি মাল্টাবাগান গড়ে তোলেন। কয়েক বছর ধরে নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা গাছগুলোতে এবার ভালো ফলন আসে। কিন্তু বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে লাভের মুখ দেখার আগেই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগ তার। মুকুল উদ্দীনের অভিযোগ, লিজের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই জমির মালিক পক্ষ ও তাদের সহযোগীরা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে বাগানটি নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ও ২০ আগস্ট দুই দফায় কয়েকজন ব্যক্তি তার মাল্টাবাগানে ঢুকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের মাল্টা জোরপূর্বক পেড়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় কালিদাসপুর দাসপাড়ার ফকির হালসানার জামাই আজিজুল হক (৪৫), দর্শনা মদনা প্রথমা পাড়ার ইকরামুল, দক্ষিণ চাঁদপুর গুলশান পাড়ার জাকের আলী ও তার স্ত্রী হাজিরা খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাগানচাষি মুকুল উদ্দীন বলেন, মাল্টাগাছ রোপণের তিন বছর পর ফল দেয়া শুরু হয়েছিল। এখন যখন পরিশ্রমের সুফল পাওয়ার সময় এসেছে, ঠিক তখনই তারা অন্যায়ভাবে আমার বাগানের ফল নিয়ে যাচ্ছেন এবং জমি ফেরত চাচ্ছেন। এতে আমি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় হয়ে পড়েছি। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ মেয়াদের চুক্তির ওপর নির্ভর করেই বাগান গড়ে তুলেছেন। এখন ফলন আসার সময় বাগান হারানোর আশঙ্কায় তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের বিনিয়োগ ও বাগান রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।


