নেহালপুর প্রতিনিধি:
দর্শনার ঐতিহ্যবাহী হিজলগাড়ী বাজারের একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘সর্বহারা পার্টি’র নামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবিকৃত টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই চাঁদা দাবির ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কোনো চরমপন্থী বা অপরাধী চক্র জড়িত, নাকি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধের জেরে কাউকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে এমন চিঠি পাঠানো হয়েছে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে বাজারজুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি হিজলগাড়ী বাজারের একাধিক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর ঠিকানায় ডাকযোগে খামবদ্ধ চিঠি পৌঁছায়। চিঠিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘সর্বহারা পার্টি’র নাম ব্যবহার করে মোট ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে ভয়াবহ পরিণতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। হঠাৎ ডাকযোগে এমন চিঠি পাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের কেউ কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে চিঠিতে চরমপন্থী সংগঠনের নাম ব্যবহার করায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে ঘটনার ধরন, চিঠি পাঠানোর পদ্ধতি ও ভাষা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন ধরনের সন্দেহও তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশের ধারণা, এটি কোনো সংঘবদ্ধ চরমপন্থী বা পেশাদার অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড নাও হতে পারে। বরং এলাকার কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো স্বার্থের কারণে তৃতীয় কোনো পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের চিঠি পাঠিয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তকে ভিন্ন দিকে নেওয়া অথবা নির্দোষ কোনো ব্যক্তিকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেও এমন কৌশল নেয়া হতে পারে। ফলে চিঠির প্রকৃত প্রেরককে শনাক্ত করা এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হিজলগাড়ী বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে এ ধরনের হুমকির ঘটনা ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি হালকাভাবে না নিয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চিঠির উৎস এবং চাঁদা দাবির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা জরুরি।
হিজলগাড়ী ক্যাম্পের আইসি আনিসুর রহমান জানান, এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ এলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি হিজলগাড়ী বাজারের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, আতঙ্ক নয়, বরং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে এই চাঁদা দাবির নেপথ্যে সত্যিই কোনো অপরাধী চক্র রয়েছে, নাকি এটি কাউকে ফাঁসানোর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।


