নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার খাজানগর এলাকায় একটি ট্রাক থেকে প্রায় ১২ টন গলে যাওয়া খোলা চিনি জব্দ করেছে পুলিশ। চিনি গলে ট্রাকের নিচ দিয়ে রাস্তায় পড়ছিল। এ ঘটনায় চিনির মালিকসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য, চিনিগুলো দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে গলে যাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। তবে চিনি আসলেই মেয়াদোত্তীর্ণ কী-না, কোথা থেকে আনা হয়েছে, এর মালিকানা কে এবং সংশ্লিষ্ট চালানের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কী-নাÑএসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকালে সদর উপজেলার খাজানগর এলাকায় রাজধানী রাইস মিলের একটি গুদামে চিনি নামানোর প্রস্তুতির সময় ট্রাকটি জব্দ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল থেকেই চিনি বোঝাই তিনটি ট্রাককে খাজানগর এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। ট্রাকগুলোর সঙ্গে থাকা কয়েকজন সেখানে চিনি সংরক্ষণের জন্য গুদাম খুঁজছিলেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। পরে শনিবার সকালে একটি ট্রাক রাজধানী এন্টারপ্রাইজের সামনে থামিয়ে চিনি নামানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়। এ সময় ট্রাক থেকে চিনি গলে গলে রাস্তায় পড়তে থাকলে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। অনেকে কৌতূহলী হয়ে সেখানে জড়ো হন। কয়েকজনকে হাঁড়ি-গামলা নিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা গলা চিনি সংগ্রহের চেষ্টাও করতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকসহ চারজনকে থানায় নিয়ে যায়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, চিনি গলে গলে ট্রাকের নিচ দিয়ে রাস্তায় পড়ছিল। বিষয়টি দেখে স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আটকে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকসহ চারজনকে থানায় নিয়ে আসে। ট্রাকটিতে প্রায় ১২ টন চিনি ছিল। ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চিনিগুলো চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকা থেকে কুষ্টিয়ার খাজানগরে আনা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। চিনি কোথা থেকে আনা হয়েছে, কার মালিকানাধীন, কেন এভাবে গলে যাওয়া চিনি গুদামে নেয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কীÑএসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, আগের দিন শুক্রবার রাতে একই চালানের আরও দুটি চিনি বোঝাই ট্রাক খাজানগর এলাকায় প্রবেশ করেছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ওই দুই ট্রাকের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ট্রাক দুটিতে কী পরিমাণ চিনি ছিল, সেগুলো কোথায় নেয়া হয়েছে এবং জব্দ করা চিনির সঙ্গে ওই চালানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কী-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই দুই ট্রাক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান চলছে।
এদিকে, চিনিগুলো রাজধানী এন্টারপ্রাইজের গুদামে নামানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুস্তাফিজুর রহমান বাবু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, চিনিগুলো তার মিলের পাশে কামাল নামের একজনের গুদামে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। এর সঙ্গে তিনি জড়িত নন। পুলিশ বলছে, জব্দ করা চিনির প্রকৃত অবস্থা, মেয়াদ, উৎস, মালিকানা ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাকি দুই ট্রাকের সন্ধান এবং সেগুলোর চিনির সঙ্গে জব্দ করা চিনির কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মেয়াদোত্তীর্ণ বা মানহীন খাদ্যপণ্য বাজারজাত করা হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে খাদ্য ও পানীয় তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত চিনির মান ও নিরাপদ সংরক্ষণ নিয়ে তাই ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। জব্দ করা চিনির প্রকৃত মান ও মেয়াদ যাচাইয়ের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


