দামুড়হুদা প্রতিনিধি:
দামুড়হুদায় সিহাব মিয়া (২০) নামের এক যুবককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সিহাবকে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে। আহত সিহাব চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাটকালুগঞ্জ গ্রামের মামুনের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক মেরামতের কাজ করেন।
সিহাবের পরিবার ও তার নিজের দাবি, সম্প্রতি তিনি বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে হাটকালুগঞ্জ এলাকার ইমান আলীর ছেলে ইমরান তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। আহত সিহাব বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ইমরান আমাকে ফোন করে চাঁদা দাবি করেন। তখন তিনি বলেন, তুই তো বিদেশ যাবি, আমাকে তিন লাখ টাকা দিয়ে যা। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো কথা হয়নি। সিহাবের ভাষ্য, শুক্রবার বিকেলে তিনি ফুটবল খেলার জন্য ইজিবাইকে করে দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুরে যাচ্ছিলেন। ফকিরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ইমরান তার ইজিবাইক থামিয়ে তাকে নিচে নামতে বলেন। তিনি নামতে না চাইলে ইমরান তার হাত ধরে জোর করে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে নেন। কিছু কথা আছে বলে তাকে সেখানে দাঁড় করানো হয়। সিহাব বলেন, আমি তার কথা না শুনে আবার ইজিবাইকে ওঠার চেষ্টা করি। এ সময় ইমরান চাপাতি বের করে পেছন থেকে আমাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে আমি গুরুতর আহত হই। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
সিহাবের দাদি সলে অভিযোগ করে বলেন, সিহাব বিদেশে যাচ্ছে এ কথা জানতে পেরে ইমরান তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেয়াকে কেন্দ্র করেই সিহাবের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, এর আগেও ইমরানের বিরুদ্ধে কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আহত অবস্থায় সিহাব মিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়। তার বাঁ হাতে ধারালো অস্ত্রের দুটি আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমরানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


