দামুড়হুদা অফিস:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় একটি ব্যাটারিচালিত পাখি ভ্যানের সিটের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৭ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরাফাত (২২) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আরও ৪-৫ জন পালিয়ে গেছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় দামুড়হুদা মডেল থানা-পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে এসব গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক আরাফাত দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর (ক্লাবপাড়া) এলাকার আনারুলের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আরাফাতের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মাদক মামলা করা হয়েছে। পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান ডুগডুগি বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, লোকনাথপুর থেকে দর্শনাগামী সড়কের পরানপুর অস্থায়ী পুলিশ চেকপোস্টের সামনে পাকা সড়কের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি গাঁজা কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। বিষয়টি তিনি থানার ওসিকে জানালে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। রাত ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশের দলটি পরানপুর অস্থায়ী চেকপোস্টের সামনে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের ধাওয়া করে আরাফাতকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আরাফাতের ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত পাখি ভ্যানে তল্লাশি চালানো হয়। ভ্যানটির চালকের বসার সিটের নিচে থাকা টুলবক্সের ভেতরে বিশেষ কৌশলে একটি হলুদ রঙের প্লাস্টিকের বস্তা রাখা ছিল। বস্তার ভেতরে খাকি রঙের কস্টেপ ও সাদা পলিথিনে মোড়ানো সাতটি পোটলা পাওয়া যায়। এসব পোটলায় গাঁজা ছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বস্তাসহ সাতটি পোটলায় থাকা গাঁজার মোট ওজন ৭ কেজি ২০০ গ্রাম। আটক আরাফাত নিজ হাতে গাঁজাগুলো বের করে দিলে রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে টর্চলাইটের আলোতে জব্দ তালিকা তৈরি করে সেগুলো জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া এসআই মশিউর রহমান বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন। পরে ওসি শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা করেন।
দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া গাঁজা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় জব্দ দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আরাফাতকে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


