দামুড়হুদা অফিস:
‘দ্রুত ব্যবস্থা নিন, জীবন বাঁচান’Ñএ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস-২০২৬। এ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইনফেকশাস অ্যান্ড ট্রপিক্যাল ডিজিজেসের সহযোগিতায় গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলনকক্ষে সর্পদংশন সচেতনতা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহা. মশিউর রহমান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মহিব্বুল্লাহ, মেডিকেল অফিসার ইজাজ সিদ্দিকী তন্ময়, মেডিকেল অফিসার নাবিদ শাহরিয়ার, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিয়ামত আলীসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এছাড়া জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও স্থানীয় সুধীজনও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ সর্পদংশনের শিকার হন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে সচেতনতার অভাব, সাপের কামড়ের পর ওঝা-কবিরাজের ওপর নির্ভরশীলতা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিতে বিলম্বের কারণে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রাণহানির পাশাপাশি অনেকে স্থায়ীভাবে শারীরিক অক্ষমতার শিকার হন। সভায় সর্পদংশনের পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়া, সঠিক প্রাথমিক সহায়তা দেয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আরও বলেন, সাপের কামড়ের পর ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবচ কিংবা ওঝা-কবিরাজের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই জীবন রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সর্পদংশন নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার ও ভুল ধারণা দূর করতে পরিবার, সমাজ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।


