মেহেরপুর অফিস:
মুঠোফোন হারিয়ে গেছে, কিংবা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অথবা ভুল করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অন্যের নম্বরে টাকা চলে গেছে এমন ঘটনায় দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় অনেককেই। তবে দ্রুত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে ফিরে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে হারানো মুঠোফোন ও টাকা। মেহেরপুরে এমনই ১০৮টি হারানো মুঠোফোন এবং প্রতারণা ও ভুলক্রমে অন্য নম্বরে চলে যাওয়া ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেহেরপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসব মুঠোফোন ও অর্থ প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার উত্তম কুমার রায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে মেহেরপুর জেলার তিন থানায় করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে হারানো ১০৮টি মুঠোফোন উদ্ধার করে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। একই সময়ে উদ্ধার করা হয় ২৬টি ফেসবুক আইডিও। এছাড়া বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়ে টাকা হারানোর ঘটনায় ভুক্তভোগীদের করা জিডির ভিত্তিতে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ভুলক্রমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অন্যের নম্বরে চলে যাওয়া টাকা উদ্ধারে করা ছয়টি জিডির ভিত্তিতে আরও ৫৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। সব মিলিয়ে দুই মাসে উদ্ধার হওয়া ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং ১০৮টি মুঠোফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হারানো ফোন ও টাকা ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা।
পুলিশ সুপার উত্তম কুমার রায় বলেন, অনলাইন জুয়া, বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভিসা জালিয়াতি, বিকাশ প্রতারণা, অনলাইন কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ বাড়ছে। এসব অপরাধের শিকার হলে হতাশ না হয়ে দ্রুত থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করতে হবে। এরপর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দিতে কাজ করে। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধের শিকার হলে যত দ্রুত পুলিশকে জানানো যাবে, প্রতিকার পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। অনলাইন প্রতারণা থেকে নিরাপদ থাকতে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওটিপি কোনো অবস্থাতেই অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে টাকা পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্যতা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।
পুলিশের এই উদ্যোগে ভুক্তভোগীদের মধ্যে যেমন হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ার আশার সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের ওপর মানুষের আস্থাও বাড়ছে। পুলিশের পরামর্শ—সাইবার প্রতারণার শিকার হলে চুপ না থেকে দ্রুত থানায় জিডি করুন; তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিকার পাওয়ার পথ খোলা রয়েছে।


