আন্দুলবাড়িয়া প্রতিনিধি:
জীবননগরের বিদ্যাধরপুর গ্রামে সবুজ হোসেন (৩২) প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ঢুকে গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে বেরসিক জনতা তাকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত উলঙ্গ অবস্থায় ধরে গণধোলায়, মাথা ন্যাড়া ও গলায় জুতার মালা দিয়ে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা আটক রাখার পর ছেড়ে দেয়া হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচিত হয়ে ওঠে। অভিযুক্ত সবুজ হোসেন বিদ্যাধরপুর গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিদ্যাধরপুর গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে সবুজ হোসেন প্রতিবেশী প্রবাসী হাসান আলীর স্ত্রী ২ সন্তানের জননী রোজিনা খাতুন (৩৭) সাথে পরকীয়া সর্ম্পক গড়ে তোলে। বেরসিক উপস্থিত জনতার ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ৩ টার দিকে পরকীয়া প্রেমিকা রোজিনা খাতুনের ঘরে ঢুকে সবুজ হোসেন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। এ সময় জনতা তাকে ঘরের মধ্যে হাতেনাতে আটক করে বেঁধে গণধোলায় দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক নারী পুরুষ ঘটনাস্থলে ভীড় করতে দেখা যায়।
বিদ্যাধরপুর গ্রামের সামাজকর্মী ইসমাইল হোসেন বলেন, গ্রামের কয়েকজন যুবক পাহারা দিয়ে ঘরের মধ্যে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় আটক করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি মেয়েদের সাথে ছবি তুলে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করতেন। তাকে দীর্ঘ ৫ ঘন্টা আটক রাখার পর মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতার মালা দিয়ে সকাল ৮ টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়।
বিচার সালিসের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত সুবজ হোসেনের পিতা ওসমান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সবুজকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উন্নত চিকিসার জন্য যশোর আড়াইশ বেড হাসপাতালে নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে শাহাপুর ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই একরামুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


