নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় ১০১ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনসহ গ্রেপ্তারের প্রায় পাঁচ বছর পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় জালাল মালিথা (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালত ও পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জালাল মালিথা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কানাপুকুর পাড়ার মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি জালাল মালিথা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার ও আদালতের রায় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড় থেকে আলমডাঙ্গাগামী সড়কের কানাপুকুর পাড় এলাকায় মতিন মেডিকেয়ার সেন্টারের পশ্চিম পাশে অভিযান চালিয়ে জালাল মালিথাকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তার হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগের ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১০১ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি অ্যাম্পুলে দুই মিলিলিটার করে মোট ২০২ মিলিলিটার ইনজেকশন ছিল। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩০ হাজার ৩০০ টাকা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুনের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইদিন দুপুরে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি অভিযান দল গঠন করা হয়। দলের অন্য সদস্যরা ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় সহকারী পরিচালক শরিয়তউল্লাহ, উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ, উপ-পরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিন, সহকারী উপ-পরিদর্শক আজগর আলী, সিপাহি জীবন হোসাইন, সিপাহি সাইফুল্লাহ ও সিপাহি আফরোজা খাতুন। অভিযান দলটি দুপুর ১টার দিকে কানাপুকুর পাড় এলাকায় মতিন মেডিকেয়ার সেন্টারের পশ্চিম পাশে পাকা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা জালাল মালিথাকে আটক করে। পরে স্থানীয় দুই ব্যক্তি আবির হাসান (২৮) ও আজিবর মণ্ডলের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার ডান হাতে থাকা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগের ভেতর থেকে পলিথিনে মোড়ানো ১০১ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে এসব মাদক জব্দ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, উদ্ধার করা ইনজেকশনগুলোর মধ্যে একটি অ্যাম্পুল রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা হিসেবে আলাদা করা হয়। নমুনা ও অবশিষ্ট আলামত পৃথকভাবে সিলগালা করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এতে উপস্থিত সাক্ষীদের স্বাক্ষর ও টিপসই নেয়া হয়। পরে গ্রেপ্তার জালাল মালিথা ও উদ্ধার করা মাদকসহ অভিযানের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে রাখা হয় এবং অবশিষ্ট আলামত থানায় জমা দেয়া হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ৮(গ) অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা করা হয়। পরে মামলাটি তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের জন্য আদালতে যায়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবরের ১২ নম্বর মামলাটি থেকে দায়রা মামলা নম্বর ৩৪/২০২২ হিসেবে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৫জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রথম তথ্য বিবরণী, জব্দ তালিকা, পুলিশ প্রতিবেদন ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করেন আদালত। রায়ে বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ৮(গ) অনুযায়ী জালাল মালিথাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ে আরও বলা হয়েছে, এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত আসামির আগে থেকে হাজতবাসের সময় থাকলে তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ সালের ৩৫এ ধারা অনুযায়ী সাজা থেকে বাদ যাবে। তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে জব্দ করা মাদকদ্রব্য রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির আদেশ দেয়া হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি শামীম রেজা ডালিম এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান দায়িত্ব পালন করেন


