আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজদেশের খবরচট্টগ্রাম বিভাগরাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের প্রণেতা এন. এন. সাহার স্বীকৃতির দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় সংবাদ সম্মেলন

রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের প্রণেতা এন. এন. সাহার স্বীকৃতির দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম প্রণেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাষাসৈনিক এবং চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান প্রয়াত এন. এন. সাহার যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মাননা এবং তার অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার। তারা বলছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে যে মনোগ্রামটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি সরকারি দপ্তরে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে নকশাকার আজও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত। গতকাল শুক্রবার সকালে চুয়াডাঙ্গা শহরের ফেরিঘাট সড়কের সত্যনারায়ণ মন্দিরের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এন. এন. সাহার বড় ছেলে সন্তোষ সাহা, সেজো ছেলে চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, ছোট ছেলে রতন লাল সাহা, নাতি স্বপন সাহা, সুমন সাহা ও মিলন সাহা। এছাড়া তার প্রপৌত্র অঞ্জন সাহা আবির, আদ্র সাহা অংকন এবং সায়ন্ত সাহাও উপস্থিত ছিলেন।


পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠ করা লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয় নির্মাণে এন. এন. সাহার অবদান ছিল অসামান্য। অথচ স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তার অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। তারা বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্ট, বাংলাদেশ সচিবালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আদালত এবং সরকারি নথিপত্রে যে রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি এন. এন. সাহার নকশা করা। রাষ্ট্রের সর্বত্র তার সৃষ্টি ব্যবহৃত হলেও ইতিহাসের পাতায় তার নাম ও অবদান এখনও যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।


সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম প্রণয়নের ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা সামনে রেখে প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনের জন্য একটি মনোগ্রামসংবলিত সিলমোহরের নকশা তৈরি করেন এন. এন. সাহা। পরে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের চাহিদা অনুযায়ী সেই নকশায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ শিরোনামে রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের চূড়ান্ত নকশা প্রস্তুত করেন। স্বাধীনতার পর সেটিই বাংলাদেশের সরকারি রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং আজও রাষ্ট্রীয় প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা আরও দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা এন. এন. সাহার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। জীবন রক্ষার্থে তাকে পরিবারসহ ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে তার এই ত্যাগ ও অবদানও রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মূল্যায়নের দাবি রাখে বলে তারা উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম প্রণেতা হিসেবে এন. এন. সাহাকে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় উপাধি ও সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মাননা প্রদান, মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, চুয়াডাঙ্গার ফেরিঘাট সড়কের নাম ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাষাসৈনিক ও রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম প্রণেতা এন. এন. সাহা সড়ক’ নামকরণ, পরিবারের দখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, ২ এপ্রিলকে ‘রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম দিবস’ ঘোষণা, চুয়াডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম সম্বলিত ইতিহাস স্তম্ভ বা স্মারক নির্মাণ এবং তার জীবন, কর্ম ও অবদান নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে গবেষণা, সংরক্ষণ ও প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ।


সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা সরকারের প্রধানমন্ত্রী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জেলা প্রশাসন, ইতিহাসবিদ, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এন. এন. সাহার অবদানকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে ইতিহাসের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হোক। তাদের ভাষ্য, একজন মানুষের সৃষ্টি আজ রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ব্যবহৃত হচ্ছে, অথচ সেই সৃষ্টির প্রণেতা এখনও প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরতে তার অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও সংরক্ষণ করা জরুরি। পরিবারের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাদের মতে, এন. এন. সাহার অবদানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হলে শুধু একজন ব্যক্তির প্রাপ্য সম্মানই নিশ্চিত হবে না, বরং স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও যথাযথ মূল্যায়ন হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ