আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগসাটল ট্রেন চালুর দাবিতে মুন্সিগঞ্জে ট্রেন আটকে মানববন্ধন

সাটল ট্রেন চালুর দাবিতে মুন্সিগঞ্জে ট্রেন আটকে মানববন্ধন




আলমডাঙ্গা অফিস/মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:

একসময় রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম সহজ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম ছিল গোয়ালন্দ-দর্শনা সাটল ট্রেন। সেই ট্রেন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রী। এর মধ্যে রংপুর-দর্শনা রুটে নতুন করে সাটল ট্রেন চালুর দাবিও দীর্ঘদিনের। এ অবস্থায় বন্ধ সাটল ট্রেন চালু ও আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জ রেলস্টেশনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল সোমবারের এ কর্মসূচিতে একটি ট্রেন সাময়িকভাবে আটকে রাখেন আন্দোলনকারীরা। পরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর স্টেশন মাস্টারের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোয়ালন্দ-দর্শনা রুটের সাটল ট্রেনটি চালু থাকাকালে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। কম খরচে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াতের সুযোগ থাকায় নিয়মিত যাত্রীদের বড় একটি অংশ ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তাদের অনেকেই সড়কপথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে সড়কপথের ভাড়া ট্রেনের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিন গুণ পর্যন্ত বেশি পড়ে। শিক্ষার্থীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রতিদিন দূরবর্তী এলাকা থেকে যাতায়াত করেন। সাশ্রয়ী ট্রেনসেবা না থাকায় তাদের পরিবারের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ পড়ছে। গোয়ালন্দ-দর্শনা সাটল ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি রংপুর-দর্শনা রুটে সাটল ট্রেন চালুর দাবিও জানানো হয়েছে কর্মসূচি থেকে।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ বাড়ানো গেলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে। চিকিৎসার জন্য এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াত করা রোগী ও তাদের স্বজনদেরও সুবিধা হবে। গতকাল সোমবার সকালে মুন্সিগঞ্জ রেলস্টেশনে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। পরে সেখানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ চলাকালে একটি ট্রেন স্টেশনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা ট্র্যাক ও প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নেন। এতে ট্রেনটি সাময়িকভাবে থেমে যায়। এ সময় আন্দোলনকারীরা যাত্রীদের কাছে তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কর্মসূচি শেষে একটি প্রতিনিধিদল স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দেয়। স্মারকলিপিতে গোয়ালন্দ-দর্শনা সাটল ট্রেন দ্রুত চালু, রংপুর-দর্শনা রুটে সাটল ট্রেন চালু এবং ট্রেনের আসনসংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। স্টেশন মাস্টার আন্দোলনকারীদের স্মারকলিপিটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, শুধু আশ্বাসে তারা সন্তুষ্ট নন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রেন চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর অঞ্চলে রেলপথ অবরোধের কর্মসূচিও দেয়া হতে পারে বলে তারা জানান।
সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন, যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী ও নিরাপদ রেলসেবা যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে বন্ধ থাকা সাটল ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করতে কার্যকর উদ্যোগ কবে নেয়া হবে। তাদের প্রত্যাশা, দাবি ও আন্দোলনের বাইরে গিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীচাহিদা, রুটের সম্ভাব্যতা ও আঞ্চলিক যোগাযোগের প্রয়োজন বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ