আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজকৃষি ও পরিবেশসার বিক্রিতে ফিরল খুচরা বিক্রেতা, বাধ্যতামূলক হচ্ছে আইডি কার্ড

সার বিক্রিতে ফিরল খুচরা বিক্রেতা, বাধ্যতামূলক হচ্ছে আইডি কার্ড




ঢাকা অফিস:

সার বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ফিরিয়ে আনা হয়েছে খুচরা বিক্রেতা বা সাব-ডিলার প্রথা। এক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতাদের জন্য আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিলারদের জন্য আলাদা যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া, নিবন্ধন, নবায়ন ও কার্যক্রম মূল্যায়নের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রাখা হয়েছে। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়। সার ডিলার নিয়োগ, নবায়ন, বরাদ্দ ও বিতরণ প্রক্রিয়াকে আরও সুনির্দিষ্ট, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ প্রণয়ন করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ওই নীতিমালায় সাব-ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা ব্যবস্থা রহিত করার কথা বলা হয়। নীতিমালায় বলা হয়েছিল, ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়োগ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলার তার অধিক্ষেত্রে নির্ধারিত তিনটি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একটি করে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করবেন। পৌরসভায় নিয়োগ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলারও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশ মোতাবেক সুবিধাজনক স্থানে অনধিক তিনটি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করবেন। অনুরূপভাবে সিটি করপোরেশনের জন্য নিয়োগ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলার তার অধিক্ষেত্রে একইভাবে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশ মোতাবেক সুবিধাজনক স্থানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করবেন। আলাদাভাবে কোনো সাব-ডিলার বা খুচরা সার বিক্রেতা থাকবে না। ডিলার, কৃষক ব্যতীত অন্য কোনো বিক্রেতার নিকট সার বিক্রয় করতে পারবেন না। ডিলার তার জন্য নির্ধারিত নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র ব্যতীত অন্য কারও মাধ্যমে সার বিক্রয় বা সরবরাহ করতে পারবেন না। ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে বর্তমানে নিয়োগকৃত ডিলারদের সংখ্যার সঙ্গে সমন্বয় করে অবশিষ্টসংখ্যক নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া যাবে। এরপর গত ৯ আগস্ট এ নীতিমালা সংশোধন করে কৃষি মন্ত্রণালয়। সংশোধনীতেও খুচরা বিক্রেতা ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। তবে এ নীতিমালাটি জারির পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ (সংশোধিত)’-এ বলা হয়, ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন পর্যায়ে প্রতিটি সার ডিলারের অধিক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩টি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থাকবে। ডিলার অধিক্ষেত্রের এলাকাভুক্ত সুবিধাজনক স্থানগুলোতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি এ ৩টি বিক্রয়কেন্দ্রের স্থান নির্বাচন করবে। ডিলার নিজে একটি বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করবেন এবং অপর ২টি বিক্রয়কেন্দ্র ডিলার থেকে মনোনীত সার বিক্রয় প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। পরবর্তীতে গত ২৭ আগস্ট ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করে সরকার। নতুন নীতিমালায় এই খুচরা বিক্রয় ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে খুচরা বিক্রেতাদের নীতিমালার আওতায় আনে কৃষি মন্ত্রণালয়।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন পর্যায়ে প্রত্যেক সার ডিলারের অধিক্ষেত্রে ৩টি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থাকবে। ডিলার অধিক্ষেত্রের এলাকাভুক্ত সুবিধাজনক স্থানগুলোতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি এ ৩টি বিক্রয়কেন্দ্রের স্থান নির্বাচন করবে। ডিলার নিজে একটি বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করবেন এবং অপর ২টি বিক্রয়কেন্দ্র জেলা/উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি থেকে নিয়োগ করা খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। এতে আরও বলা হয়, খুচরা বিক্রেতারা ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ের ক্ষেত্রে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি থেকে এবং সিটি করপোরেশন পর্যায়ের ক্ষেত্রে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। তবে সার বিক্রয়সহ অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা সংক্রান্ত অনিয়মের দায়ে এর আগে দোষী সাব্যস্ত কোনো ব্যক্তি খুচরা বিক্রেতা হিসেবে থাকতে, নিয়োজিত বা পুনঃনিয়োজিত হতে পারবেন না। খুচরা বিক্রেতাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। জেলা/উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রত্যেক ডিলার তার আওতাধীন খুচরা বিক্রেতাদের নির্ধারিত পরিমাণ সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করবেন। সার বিক্রয় সংক্রান্ত খুচরা বিক্রেতার কর্মকাণ্ডের জন্য ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা জেলা বা উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির নিকট দায়বদ্ধ থাকবেন। ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনে ডিলার ইউনিটের বিপরীতে খুচরা বিক্রেতা শূন্য থাকা সাপেক্ষে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা বা উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় ও সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিজ্ঞপ্তিতে কার্য-এলাকা (ইউনিয়নের ওয়ার্ড/পৌরসভা/সিটি করপোরেশনের সুনির্দিষ্ট এলাকা) অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে। বিজ্ঞপ্তি ব্যতীত খুচরা বিক্রেতা নিয়োগের জন্য কোনো আবেদন গ্রহণ করা যাবে না।
এছাড়া বহুল প্রচারের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা বিআরডিবি অফিস, উপজেলা সমবায় অফিস, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অফিস, স্থানীয় বিএডিসি (সার) ও বিসিআইসি অফিস এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন নীতিমালায় খুচরা বিক্রেতা হতে হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করে আইডি কার্ড নিতে হবে। আবেদনকারীর স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্বের সনদসহ নির্ধারিত কাগজপত্র জমা দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা হতে হবে এবং এর প্রমাণক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক/সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দেওয়া নাগরিকত্ব সনদ দাখিল করতে হবে। নিয়োগকৃত খুচরা বিক্রেতাদের বিক্রয়কেন্দ্র সংলগ্ন নিজ মালিকানায় অথবা ভাড়ায় ন্যূনতম ৫ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গুদাম থাকতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, খাবারের দোকান/রেস্টুরেন্ট, গোখাদ্য, মাছের খাবার, সবজি দোকানের সঙ্গে সার গুদাম করা যাবে না এবং সারের গুদামে বীজ সংরক্ষণ করা যাবে না। নীতিমালায় বলা হয়, বস্তাবন্দী সার যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য গুদামের ভিটি স্বাভাবিক বন্যাসীমার চেয়ে উঁচু ও পাকা থাকতে হবে। আবেদনকারীকে আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। আবেদনকারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও চলাচলে সক্ষম হতে হবে এবং আবেদনকারীর টিআইএন থাকতে হবে।
তবে সার বিক্রয়সহ অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা সংক্রান্ত অনিয়মের দায়ে এর আগে দোষী সাব্যস্ত কোনো ব্যক্তি খুচরা বিক্রেতা হিসেবে আবেদন করতে বা নিয়োজিত হতে পারবেন না। পাশাপাশি এর আগে ব্যবসায় অনিয়ম, কোনো ফৌজদারি বা অন্য কোনো আইনে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে থাকলে তিনিও আবেদনের জন্য অযোগ্য হবেন। তবে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি সাজা ভোগের দুই বছর পর আবেদন করতে পারবেন। কোনো বিধিবদ্ধ সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান/পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়/এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বা জনপ্রতিনিধি সার খুচরা বিক্রেতা হতে বা থাকতে পারবেন না। খুচরা বিক্রেতার আইডির জন্য আবেদন ফি এবং পরে আইডি নবায়নের ফি-ও নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট জেলা/উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে নির্ধারিত ছকে জেলা/উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি বরাবর আবেদন দাখিল করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে আবেদন ফি বাবদ অফেরতযোগ্য ১ হাজার টাকার পোস্টাল অর্ডার/পে-অর্ডার/ডিমান্ড ড্রাফট জেলা/উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি বরাবর জমা দিতে হবে।
খুচরা বিক্রেতার সংখ্যা নির্ধারণ: নতুন নীতিমালায় বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রেতার সংখ্যাও নির্ধারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রতিটি ইউনিয়নে ৬টি, পৌরসভায় ৬টি ও সিটি করপোরেশনে প্রয়োজনীয়সংখ্যক খুচরা বিক্রেতা নিয়োগ করা হবে। বিদ্যমান খুচরা বিক্রেতাদের বহাল রেখে ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন এলাকায় খুচরা বিক্রেতার শূন্য ইউনিটের বিপরীতে নিয়োগ দিতে হবে। জেলা/উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি খুচরা বিক্রেতা নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। জেলা/উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি এ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রাপ্ত দরখাস্ত বা আবেদনপত্র যথানিয়মে রেকর্ডভুক্ত করে যাচাই-বাছাই করে মতামত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি অফিসারের কাছে পাঠাবেন। উপজেলা কৃষি অফিসার আবেদনপত্রের তথ্যাদি সরেজমিন যাচাই করে মতামতসহ জেলা বা উপজেলা কমিটির কাছে পাঠাবেন। জেলা বা উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করে প্রাপ্ত আবেদনগুলোর মধ্য থেকে যোগ্য আবেদনকারীদের নির্বাচন করবেন। নতুন নীতিমালায় ডিলারশিপের পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতার আইডি কার্ডও নির্দিষ্ট সময় পর নবায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যোগ্য ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে নিয়োগের পর প্রতি দুই বছর অন্তর যথাক্রমে ডিলারশিপ ও খুচরা বিক্রেতার আইডি কার্ড নবায়ন করতে হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, একই পরিবারের একজনের ডিলারশিপ বা খুচরা বিক্রেতার আইডি থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যের ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকবে। নীতিমালায় পরিবারের সদস্য হিসেবে বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী, ছেলে, ছেলের স্ত্রী, অবিবাহিত মেয়ে এবং একই খানায় (পরিবারে) বসবাসকারী ভাই ও বোনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন নীতিমালার ফলে এখন ডিলারের পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতার কার্যক্রমও মূল্যায়ন করা হবে। অনিয়ম, নীতিমালা লঙ্ঘন বা নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে তাদের আইডি বাতিলের সুযোগ থাকবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি অর্থনীতিবিদ (সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং) শাহনাজ আক্তার বলেন, সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ প্রণয়ন করার পর তা কার্যকরও করা হয়েছে। কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে আগের নীতিমালা বাতিল হয়ে গেছে।

ঝিনাইদহ থেকে ব্যবসায়ীর চুরি হওয়া ৯৭ লাখ উদ্ধার ॥ গ্রেফতার ৩
ঢাকা অফিস: গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানার চাইনিজ চেয়ারম্যানের গাড়ি থেকে শ্রমিকদের বেতন ও কারখানার খরচের জন্য রাখা ১ কোটি টাকা চুরির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ব্যক্তিগত গাড়িচালকসহ ৩ জনকে আটক করেছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুর। অভিযানের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুরি যাওয়া ৯৭ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ গাজীপুরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএম-সেবা এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় রাজেন্দ্রপুরের কারখানা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল ক্যাডেট ক্লাবের সামনে যাত্রাবিরতি করেন ল্যাভেন্ডার ফ্যাশনের চাইনিজ চেয়ারম্যান। এ সময় তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহিদ হাসান গাড়িতে থাকা শ্রমিকদের বেতন ও কারখানার অন্যান্য ব্যয়ের জন্য রাখা ১ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। পরে মালিককে অনুশোচনামূলক একটি খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় মামলা হলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুর ছায়া তদন্ত শুরু করে। শিল্প সংক্রান্ত হওয়ায় ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা, গাজীপুর ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ঝিনাইদহ সদর থেকে মূল অভিযুক্ত ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু থানার কুলবাড়িয়া গ্রামের দবির উদ্দিনের ছেলে জাহিদ হাসানকে (৩০) আটক করা হয়। তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ৮৬ লাখ টাকা। এছাড়া সহযোগী ঝিনাইদহ জেলার সদর থানার কাঞ্চননগর গ্রামের মৃত দাউদ হোসেনের ছেলে আক্তারুজ্জামানের (৫১) কাছ থেকে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী রংপুর জেলার তাড়াগঞ্জ থানার পলাশবাড়ি গ্রামের সামসুল হকের মেয়ে নাসিমা আক্তারের (২৪) টঙ্গীর বাসা থেকে ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, চুরি করা টাকা থেকে জাহিদ নতুন বাসা ভাড়া, আসবাবপত্র কেনা এবং ৩৩ হাজার টাকা দিয়ে নতুন মোবাইল ফোন কেনাসহ মোট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করেন। অভিযানকালে চোরাই টাকায় কেনা আসবাবপত্র ও মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা এবং শিল্প সংক্রান্ত অপরাধ দমনে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ সর্বদা তৎপর। দ্রুততম সময়ে অভিযান পরিচালনা করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তকে আটক এবং চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
অভিযানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুরের পাশাপাশি ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের ডিবি টিম সহযোগিতা করে। আটক ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা টাকা ও মালামালসহ তাদেরকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ