আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজসম্পাদকীয়সীমান্ত পেরিয়ে অলিগলিতে মাদকের বিস্তার

সীমান্ত পেরিয়ে অলিগলিতে মাদকের বিস্তার




মাদক আর সীমান্তে আটকে নেই। সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় মাদকের বিস্তার এখন শহরের অলিগলি পেরিয়ে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। বদলেছে মাদকের ধরন, বদলেছে সরবরাহের কৌশল কিন্তু কমেনি এর ভয়াবহতা। একসময় ফেনসিডিল ছিল জেলার মাদকবাজারের প্রধান পণ্য। এখন সেই জায়গা দখল করছে ইয়াবা, বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন ও ট্যাপেন্টাডলের মতো মাদক। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব মাদকের সহজলভ্যতার কারণে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ নেশার ঝুঁকিতে পড়ছে। চুয়াডাঙ্গার বাস্তবতা বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই এখন আর কেবল সীমান্ত পাহারা বা বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশের পাশাপাশি জেলার অভ্যন্তরে যে সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সীমান্ত থেকে শহর, শহর থেকে পাড়া-মহল্লা, সেখান থেকে প্রত্যন্ত গ্রামÑবিভিন্ন কৌশলে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে ভোক্তার হাতে। মাঝেমধ্যে মাদকসহ কারবারি ও সেবনকারীরা গ্রেপ্তার হলেও সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া প্রমাণ করে, সমস্যার শিকড় আরও গভীরে। আরও উদ্বেগজনক হলো, মাদকসেবনের জন্য জেলার বিভিন্ন পরিত্যক্ত ভবন ও নির্জন স্থান ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ। চুয়াডাঙ্গা শহরের দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত পুরাতন জেলখানার চারপাশ লতাপাতায় ঢেকে গিয়ে একটি অরক্ষিত ও নির্জন এলাকায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানটি দিনে-রাতে মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। এমন স্থান যদি মাদকসেবন বা কেনাবেচার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে শুধু অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন আনা কঠিন। পরিত্যক্ত স্থাপনা ও নির্জন জায়গাগুলোকে নিরাপদ ও নজরদারির আওতায় আনা তাই জরুরি। মাদকের সঙ্গে অপরাধের সম্পর্কও গভীর। একজন মাদকসেবীর নেশার অর্থ জোগাড়ের তাগিদ থেকে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। আবার মাদক কারবারকে ঘিরে গড়ে ওঠে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণ কেবল জনস্বাস্থ্যের বিষয় নয় এটি আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষারও প্রশ্ন।
পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী অভিযান, সামারি ট্রায়াল এবং কারবারি ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। মাদক ক্রয়-বিক্রয়, আমদানি-রপ্তানি, কারবারের পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থদাতাদের চিহ্নিত করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। এসব উদ্যোগ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযানের সাফল্য কেবল কতজন গ্রেপ্তার হলো বা কত পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলোÑসেটি দিয়ে বিচার করলে চলবে না। প্রশ্ন হলো, মাদকের সরবরাহব্যবস্থার মূল হোতারা কতটা চিহ্নিত হচ্ছে এবং তাদের নেটওয়ার্ক কতটা ভেঙে দেওয়া যাচ্ছে। অভিজ্ঞতা বলে, মাদকসহ বাহক কিংবা একজন সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করলেই মাদক কারবার বন্ধ হয় না। একজন ধরা পড়লে তার জায়গায় আরেকজন যুক্ত হয়Ñযদি নেপথ্যের সরবরাহকারী, পৃষ্ঠপোষক ও অর্থের উৎস অক্ষত থাকে। তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দৃশ্যমান অভিযানের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের পুরো চেইন শনাক্ত করতে হবে। কারা সীমান্ত থেকে মাদক আনে, কারা তা সংরক্ষণ করে, কারা বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয়, কারা অর্থ জোগান দেয় এবং কারা পৃষ্ঠপোষকতা করেÑএই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। তবে মাদকবিরোধী লড়াইকে শুধু পুলিশের হাতে ছেড়ে দেয়াও ঠিক হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক, তরুণসমাজ এবং স্থানীয় নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি বা সেবনের তথ্য জানা গেলে তা গোপন না রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে কেউ যেন ভয়ভীতি, হামলা বা হয়রানির শিকার না হন, সেটিও প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বের দাবি রাখেÑমাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। শুধু গ্রেপ্তার ও শাস্তির মাধ্যমে মাদকাসক্তি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। যারা আসক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের জন্য পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। চুয়াডাঙ্গার মতো সীমান্তবর্তী জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জেলার ভেতরের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়াও সমান জরুরি। সীমান্তে কঠোর নজরদারি, আন্তসংস্থার সমন্বয়, মাদক কারবারের অর্থের উৎস অনুসন্ধান, পরিত্যক্ত স্থাপনায় নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধÑসবগুলো পদক্ষেপকে একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। মাদকের ধরন বদলেছে, তাই প্রতিরোধের কৌশলও বদলাতে হবে। চুয়াডাঙ্গার অলিগলি থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত মাদকের যে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে, সেটি ভাঙতে হলে বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক ও সমন্বিত উদ্যোগ। একটি প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করার প্রশ্নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে দীর্ঘদিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ