আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজসম্পাদকীয়আর কতটা চাপ নেবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল

আর কতটা চাপ নেবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল




চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিত্র উদ্বেগজনকই নয়, বরং আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে। মাত্র ২২টি শয্যার একটি ওয়ার্ডে ১২ দিনে ৫৫৬ শিশুর ভর্তিÑএই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, শিশুস্বাস্থ্যসেবায় হাসপাতালটি কী ভয়াবহ চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে একসঙ্গে শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন। শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনদের ভিড়ে ওয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে অস্বস্তিকর পরিবেশ। চিকিৎসক-নার্সদেরও সীমিত জনবল দিয়ে সামলাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক রোগী। এ পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়া যায় না। হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২ দিনে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৫৫৬ শিশু। অথচ সেখানে সাধারণ শয্যা ২০টি ও কেবিন দুটিÑমোট ২২টি। অর্থাৎ শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ কতটা বেশি, তা হিসাব করলেই বোঝা যায়। এর বাইরে বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। মাত্র দুই চিকিৎসককে এই বিপুলসংখ্যক রোগী সামলাতে হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে, সেটিই স্বাভাবিক। কিন্তু এই চাপের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে শিশুদের চিকিৎসাসেবার মান ও নিরাপত্তা নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকেরা এর পেছনে অতিরিক্ত গরম, ঘাম, বৃষ্টির কারণে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণের কথা বলছেন। শিশুদের রোগপ্রবণতা বাড়ার এই সময়ে হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতিও বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, রোগী বাড়ছে দ্রুতগতিতে, অথচ শয্যা ও জনবল রয়ে গেছে আগের জায়গাতেই। এখানেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। একটি শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হলে সেটিকে কেবল ‘রোগীর চাপ বেশি’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। একটি সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা নির্ধারণ করতে হবে বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে যদি নিয়মিতই নির্ধারিত শয্যার কয়েক গুণ রোগী আসে, তাহলে অতিরিক্ত শয্যা স্থাপন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত ওয়ার্ড চালুর ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বহির্বিভাগের পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ শিশুকে মাত্র দুই চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা দেয়ার ব্যবস্থা কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না। চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়লে রোগী দেখার জন্য প্রয়োজনীয় সময় কমে আসতে পারে। এতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শিশু রোগীর চাপ বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্তসংখ্যক শিশু বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক পদায়ন করা জরুরি। তবে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের এই সময়ে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিশুর ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ধুলাবালি ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলা, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে শিশুকে দূরে রাখা এবং শিশুর জ্বর, দ্রুত শ্বাস নেয়া, শ্বাসকষ্ট, বুক দেবে যায়া, খেতে না চাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ খাওয়ানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। নবজাতক ও ছোট শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধ নিশ্চিত করা এবং ছয় মাস বয়সের পর বয়স উপযোগী পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল দেয়ার বিষয়েও অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল জেলার প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। ফলে শুধু চুয়াডাঙ্গা সদর নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও জটিল অবস্থার শিশুদের এখানে পাঠানো হয়। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এক মাস বয়সী শিশুকে সদর হাসপাতালে আনার ঘটনাও এই বাস্তবতার একটি উদাহরণ। ফলে সদর হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমাতে উপজেলা পর্যায়ের শিশুস্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতাও বাড়ানো দরকার। ২২টি শয্যা দিয়ে ৫৫৬ শিশুর ১২ দিনের চাপ সামাল দেয়ার চেষ্টা আসলে কোনো সমাধান নয়; এটি সংকটের গভীরতার একটি সতর্কসংকেত। আজ শিশুরা মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে, কাল রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেÑসেই প্রশ্নের উত্তর এখনই খুঁজতে হবে। শিশু ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা পাতা যেন আমাদের কাছে স্বাভাবিক দৃশ্য হয়ে না যায়। ২২ শয্যার সীমাবদ্ধতার আড়ালে শত শত শিশুর চিকিৎসার সংকটকে আর ঢেকে রাখা যাবে না। এখনই ব্যবস্থা নিতে হবেÑশিশুর সুস্থতা ও নিরাপদ চিকিৎসার স্বার্থেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ