আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ২৩ ট্যাপেন্টাডলসহ তিনজন এবং বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত তিনজনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার সনাতন, হৈদারপুর ও মুন্সিগঞ্জ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আলমডাঙ্গার সনাতন গ্রামের মৃত আসলাম মন্ডলের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৫৫), হৈদারপুর গ্রামের মুক্তার আলীর ছেলে আকাশ আলী (২৪), কেশবপুর গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে ইমাদুল হক (৪২), কান্তপুর গ্রামের মৃত ইসাহাক আলীর ছেলে স্বপন আলী (৪৩), চরশ্রীরামপুর গ্রামের মৃত মোশারফ মন্ডলের ছেলে ডাবলু হক (৪৪) এবং গোবিন্দপুর (মাঠপাড়া) গ্রামের আদার স্ত্রী জুথী খাতুন (৩০)।
পুলিশ জানায়, ঘোলদাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের এসআই গোলাম হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সনাতন গ্রামের সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় সিরাজুল ইসলামকে ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও নগদ ৩ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে উদ্ধার করা ট্যাবলেট ও টাকা জব্দ করা হয়। অপর অভিযানে আলমডাঙ্গা থানার (এসআই) আলমগীর কবীরের নেতৃত্বে হৈদারপুর গ্রামের মুক্তার আলীর বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আকাশ আলীকে ৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ৪৫০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, আলমডাঙ্গা থানার এসআই শাহরিয়ার হুসাইন রুবেলের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মুন্সিগঞ্জ এলাকা থেকে ইমাদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আলমডাঙ্গা থানার একটি মাদক মামলার তদন্তে পাওয়া সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পাইকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই ওয়াহিদুল হক, পাঁচকমলাপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই আনোয়ার হোসেন এবং আলমডাঙ্গা থানার এএসআই আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে পৃথক অভিযান চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত স্বপন আলী, ডাবলু হক ও জুথী খাতুনকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমাদুল হককে আলমডাঙ্গা থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সিরাজুল ইসলাম ও আকাশ আলীকে তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য সামারি ট্রায়াল কোর্টে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে পরোয়ানামূলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে চলছে। মাদক কারবার, পরিবহন ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


