আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগআলমডাঙ্গায় মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে রহস্য ঘণিভূত

আলমডাঙ্গায় মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে রহস্য ঘণিভূত




আলমডাঙ্গা অফিস:

আলমডাঙ্গা উপজেলার চরপাড়া গ্রামের একটি মাদরাসায় এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মাওলানা আবুল কালাম নামে মাদ্রাসার বড় হুজুরকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় জড়ো হয়ে মাওলানা আবুল কালামকে আটক করেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনার পেছনে পূর্ববিরোধ ও শিক্ষার্থীকে সতর্ক করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেন, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে চরপাড়া গ্রামের এক তরুণের কথিত সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে মাদরাসার শিক্ষক আগে শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছিলেন। এরপর ওই তরুণের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীকে চকলেট দেয়ার বিষয়টি নিয়েও এলাকায় আলোচনা তৈরি হয় বলে দাবি তাদের। স্থানীয়দের ওই অংশের দাবি, শিক্ষার্থীকে বকাঝকা করার পর শিক্ষককে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী অভিভাবককে ডেকে এনে শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ করে বলে তারা দাবি করেন। অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পরই স্থানীয়দের একটি অংশ শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করে। তবে এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক দাবি করেন, মাওলানা আবুল কালামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। ওই শিক্ষক বলেন, তিনি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলার সময় ধর্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষার্থী পরে তাকে ধর্ষণ নয়, বরং জড়িয়ে ধরার কথা জানিয়েছে বলে তার দাবি। এরপর শিক্ষার্থীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে কথা উঠলে স্থানীয় একটি পক্ষ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয় বলেও দাবি করেন ওই শিক্ষক। পাশাপাশি ওই মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা এবং অনুদান পাঠায় ওই গ্রামের কর্নেল। মাদ্রাসাটিতে নিয়োগ দেয়া নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে গ্রামের কর্তা বাবুদের একটা ক্ষোভ ছিল যার কারণে তিলকে তাল বানিয়েছে।
আরেকজন শিক্ষক বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে হুজুর এবং তার স্ত্রী একসাথে চাকরী করে আর মেয়েটি যে ধর্ষণ করার কথা বলছে মাদ্রাসায় তাও ৬-৭ বার সেটা কিভাবে সম্ভব। তাছাড়াও হুজুর কিন্ডার গার্ডেনের ছেলেদের ক্লাস নেয়, পাশাপাশি অফিসিয়াল কাজ কর্মগুলো দেখভাল করে, তাই এখানে আমাদের কাছে মানে হচ্ছে সব ষড়যন্ত্র করে এমন করেছে।
স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীর অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার আগেই কোনো ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর করাও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিচার বা গণপিটুনির পরিবর্তে শিক্ষার্থী, তার পরিবার, অভিযুক্ত শিক্ষক, কথিত তরুণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে সাংবাদিকরা ওই পরিবারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও পরিবারটি এড়িয়ে যাচ্ছেন গণমাধ্যমকে। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল বলেন, ঘটনাটি ঘটার পর ওইদিনই থানায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ৯/১ ধারায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ