জীবননগর অফিস:
দর্শনার ঐতিহ্যবাহী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চিনি কারখানার লোকসান আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। চিনি কারখানা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য ইউনিটগুলোও মুনাফায় রয়েছে। আখ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে জীবননগরের উথলী ইউনিটে আখচাষি শামীম হোসেনের আখের প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য জানান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান।
পরিদর্শনকালে রাব্বিক হাসান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে চিনি কারখানা। কারখানাটির মূল কাঁচামাল আখ। তাই কৃষকদের আখ চাষে উৎসাহিত করা এবং আধুনিক পদ্ধতিতে আখের পরিচর্যার মাধ্যমে মানসম্মত আখ উৎপাদনে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষকরা যাতে আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হন এবং পরিচর্যার মাধ্যমে মানসম্মত আখ সরবরাহ করতে পারেন, সে বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা চাষীদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। কেরু অ্যান্ড কোম্পানির এমডি জানান, কৃষকদের উৎসাহিত করতে আখের দাম বাড়িয়েছে সরকার। আগে প্রতি কুইন্টাল (১০০ কেজি) আখের দাম ছিল ৬২৫ টাকা। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৬৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আসন্ন মাড়াই মৌসুমে কৃষকেরা বাড়তি দামে তাদের উৎপাদিত আখ বিক্রির সুযোগ পাবেন। রাব্বিক হাসান বলেন, কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হলে আখের উৎপাদন বাড়বে। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে চিনি কারখানার উৎপাদন ও সক্ষমতাও বাড়ানো সম্ভব হবে। কৃষক ও প্রতিষ্ঠান দুই পক্ষের স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি। প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। এর মধ্যে চিনি কারখানা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য ইউনিটগুলো মুনাফা অর্জন করেছে। তিনি জানান, ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ২২৩ কোটি টাকা, বাণিজ্যিক খামার থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি এবং পরীক্ষামূলক খামার থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ইউনিটের আয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার ফলে সামগ্রিকভাবে আর্থিক সক্ষমতা বাড়ছে বলেও জানান তিনি। কেরুর জৈব সার উৎপাদন ও বিক্রির বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন রাব্বিক হাসান। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ‘সোনার দানা’ জৈব সার বিক্রি করে এবার প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লাভ হয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তিনি বলেন, জৈব এই সার মাটির ক্ষয় রোধ এবং উর্বরতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের এলাকার কৃষকেরা আখের পাশাপাশি অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও এ সার ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন। কেরুর এমডি বলেন, কৃষকেরাই দেশের প্রাণ। তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারলে কৃষি ও শিল্প দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বর্ধিত মূল্য, আধুনিক কৃষি সহায়তা ও মানসম্মত আখ উৎপাদনের মাধ্যমে আগামী দিনে কৃষক এবং কেরু অ্যান্ড কোম্পানি উভয়ই আরও সমৃদ্ধ হবে।
পরিদর্শনের সময় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কৃষি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, ডিজিএম (সম্প্রসারণ) মাহবুবুর রহমান, ডিএম (সম্প্রসারণ) মাহাফুজুল আলম, সিডিএ সাকী মাহমুদ এবং স্থানীয় আখচাষি শামীম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


