জীবননগর অফিস:
জীবননগর উপজেলার বেনীপুর সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় এক ভারতীয় নাগরিকসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে স্থানীয় দুই ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটক সাতজনের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয় নাগরিক এবং দুজন কথিত দালাল। আটক বাংলাদেশিরা হলেন বাগেরহাটের শরণখোলার আব্দুস শুকুর খান, সিলেটের শারমিন আক্তার রুমি ও হামিদা এবং চাঁদপুরের নয়ন। অপরজন ভারতের কলকাতার বাসিন্দা নিয়ান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সূত্রের ভাষ্য, বুধবার ভোরের দিকে বেনীপুর সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ওই পাঁচজন বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরে তারা জীবননগর শহরের দিকে আসার সময় তাদের চলাফেরা ও গতিবিধি স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহজনক মনে হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাদের ঘিরে ফেলেন এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে জীবননগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনকে হেফাজতে নেয়। তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে স্থানীয় দুই ব্যক্তিকেও আটক করা হয়। পরে সাতজনকেই থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, বেনীপুর সীমান্ত এলাকায় হাসিবুল ও আসমাউল নামে দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করে থাকেন। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তাদের নাম উঠে এলেও তারা কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে ওই পাঁচজনকে সীমান্ত পার হতে সহায়তা করেছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায়ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের এই ঘটনার পেছনে মানব পাচার, অবৈধ পারাপার কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক ভারতীয় নাগরিকসহ পাঁচজন অনুপ্রবেশকারী এবং তাদের পারাপারে সহায়তার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তারা কী উদ্দেশ্যে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন এবং তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, ঘটনাটি জানার পর বিজিবির পক্ষ থেকেও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তপথে অবৈধভাবে মানুষ পারাপার ঠেকাতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই নয়, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ও জনসচেতনতাও জরুরি। বেনীপুর সীমান্তের এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে সীমান্ত পারাপারের পুরো প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।


