আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজঅর্থনীতিট্রাকযোগে দর্শনা থেকে ভোলা নেয়ার পথে ৯ লাখ টাকার ভুট্টা উধাও

ট্রাকযোগে দর্শনা থেকে ভোলা নেয়ার পথে ৯ লাখ টাকার ভুট্টা উধাও




দর্শনা অফিস:

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে ভোলার ঘোষঘাটে কাজী ফার্মস লিমিটেডের নির্ধারিত ইউনিটে পাঠানো প্রায় ৯ লাখ টাকা মূল্যের ভুট্টা গন্তব্যে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ২১ হাজার ৬৯০ কেজি ভুট্টাবোঝাই ট্রাকটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে মাঝপথে মালামাল বিক্রি করে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন কাজী ফার্মসের দর্শনা এলাকার ভুট্টা ক্রয়কেন্দ্রের প্রতিনিধি ইকবাল কবির জাহিদ। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মহিবুল ইসলাম ও ট্রাকমালিক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন তিনি। তবে ট্রাকমালিকপক্ষ বলছে, চালক ১৪ সেপ্টেম্বর ফিরে এসে গাড়ির ভাড়ার হিসাব বুঝিয়ে দিয়েছেন। পরে ভুট্টা গন্তব্যে পৌঁছায়নি জানতে পেরে চালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দর্শনার গুদাম থেকে ভুট্টা নিয়ে রওনা হওয়া ট্রাকটি আসলে কোথায় গিয়েছিল, গন্তব্যে না পৌঁছালে পণ্যটির কী হয়েছে এবং চালক ফিরে এসে কীভাবে ট্রাকমালিকের কাছে হিসাব বুঝিয়ে দিলেনÑএসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। পুলিশ বলছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দর্শনা থানায় ১৭ সেপ্টেম্বর দেয়া এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইকবাল কবির জাহিদ কাজী ফার্মস লিমিটেডের দর্শনা এলাকার ভুট্টা ক্রয়কেন্দ্রের প্রতিনিধি। প্রতিষ্ঠানটির নির্দেশে গত ১২ আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে দর্শনা থেকে ভোলার ঘোষঘাটে অবস্থিত কাজী ফার্মসের নির্ধারিত ইউনিটে ভুট্টা পাঠানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর রফিকুল ইসলামের পরিবহন প্রতিষ্ঠানের একটি ট্রাক ভাড়া করা হয়। ট্রাকটির নিবন্ধন নম্বর যশোর-ট-১১-৩৫৩৪। এজাহার অনুযায়ী, ওই ট্রাকের চালক ছিলেন মহিবুল ইসলাম। ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ২৪ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত দর্শনা থানার করিমপুরে অবস্থিত কাজী ফার্মসের নিজস্ব গুদাম থেকে ট্রাকে ভুট্টা তোলা হয়। এ সময় লেবারদের মাধ্যমে ভুট্টা তোলার সময় চালকও উপস্থিত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাকে মোট ২১ হাজার ৬৯০ কেজি ভুট্টা তোলা হয়, যার মূল্য ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ট্রাকটির ভোলার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চালক ট্রাকটি নিয়ে রওনা না হয়ে দুই দিন রামনগর মোড়ে ফেলে রাখেন। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হেলপারকে রেখে একাই ভোলার উদ্দেশে রওনা হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইকবাল কবির জাহিদের দাবি, দর্শনা থেকে ভোলার নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে ট্রাকটির সর্বোচ্চ দুই দিন সময় লাগার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ভুট্টা গন্তব্যে পৌঁছায়নি। চালকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও চালক ও ট্রাকটির সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে ট্রাকমালিকপক্ষের বক্তব্যে। ইকবাল কবির জাহিদের দাবি, ১৭ সেপ্টেম্বর ট্রাকমালিক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তার চালক ১৪ সেপ্টেম্বর ফিরে এসে ট্রাকের ভাড়ার হিসাব বুঝিয়ে দিয়েছেন। অথচ অভিযোগকারীর হিসাবে, ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে দর্শনা থেকে ভোলার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর এক দিনের মধ্যে চালকের ফিরে এসে ট্রাকমালিকের কাছে হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ কারণেই ইকবাল কবির জাহিদের অভিযোগ, চালক নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে অন্য কোথাও ভুট্টা বিক্রি করে দিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। একই সঙ্গে ট্রাকমালিকের সঙ্গে চালকের যোগসাজশেরও অভিযোগ এনেছেন তিনি। তবে চালক আদৌ ভোলায় গিয়েছিলেন কি না, ট্রাকটি কোন পথে চলাচল করেছে, কোথায় অবস্থান করেছে কিংবা ভুট্টা অন্য কোথাও বিক্রি করা হয়েছে কি নাÑএসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
ট্রাকমালিক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ছেলে রিফাত ফোনে বলেন, চালক গত ১০ সেপ্টেম্বর ভুট্টা পরিবহনের একটি ট্রিপ ধরেছিলেন। দুই দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গাড়িটির গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেটি সময়মতো পৌঁছায়নি। রিফাতের ভাষ্য, চালক ১৪ সেপ্টেম্বর ফিরে এসে তাদের কাছে হিসাব বুঝিয়ে দেন। এরপর অন্য একজন চালক দিয়ে ট্রাকটি নতুন ট্রিপে পাঠানো হয়। তিনি আরও বলেন, ট্রিপ শুরুর সাত দিন পর বিষয়টি তাদের জানানো হয় যে এতদিনেও মালামাল গন্তব্যে পৌঁছায়নি। বিষয়টি জানার পর তারা আগের চালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু চালক ফোন রিসিভ করছেন না।
এজাহারে ভুট্টার মূল্য ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে অগ্রিম গাড়িভাড়া ৩২ হাজার টাকা যোগ করে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ টাকা দাবি করেছেন অভিযোগকারী। এজাহারে ট্রাকমালিক রফিকুল ইসলামকে মেসার্স এম আর ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করে চালকের সঙ্গে যোগসাজশে মালামাল ও গাড়িভাড়ার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে ট্রাকমালিকপক্ষের দাবি, চালক ফিরে এসে হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার পর তারা বিষয়টি স্বাভাবিক হিসাবেই নিয়েছিলেন। পরে মালামাল গন্তব্যে না পৌঁছানোর বিষয়টি জানতে পারেন এবং তখন চালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পুরো ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নÑদর্শনার করিমপুরের গুদাম থেকে ২১ হাজার ৬৯০ কেজি ভুট্টা নিয়ে ভোলার উদ্দেশে যাত্রা করা ট্রাকটির পণ্য গেল কোথায়?
চালক যদি ১৪ সেপ্টেম্বর সত্যিই ফিরে এসে ট্রাকমালিকপক্ষের কাছে হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে থাকেন, তাহলে ওই সময় ট্রাকের ভেতরে ভুট্টা ছিল কি না, থাকলে তা কোথায় ছিলÑএ প্রশ্নও সামনে এসেছে। আবার ভুট্টা যদি গন্তব্যে না পৌঁছে থাকে, তাহলে পরিবহনসংক্রান্ত হিসাবের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের হিসাব কীভাবে মিলেছে, সেটিও তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ