শহরের প্রবেশমুখ একটি শহরের পরিচয়ের প্রথম দৃশ্য। সেখানে যদি চোখে পড়ে ময়লার স্তূপ, নাকে আসে পচা আবর্জনার দুর্গন্ধ, তাহলে শুধু পরিবেশই নোংরা হয় না নষ্ট হয় পুরো শহরের ভাবমূর্তিও। দর্শনা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখের রেলগেট এলাকার দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড় পরিষ্কারের উদ্যোগ তাই নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক এবং প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা জমে জায়গাটি কার্যত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। পচা আবর্জনা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পথচারী, যাত্রী, মোটরসাইকেল চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের। বিশেষ করে গরম ও রোদের সময় পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠত। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপথের পাশে দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকা নিঃসন্দেহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য উদ্বেগের বিষয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি দর্শনা পৌর প্রশাসক ও দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলমের নজরে আসা এবং সরেজমিনে পরিদর্শনের পর দ্রুত পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হওয়া ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। পৌর কর্তৃপক্ষ আগামী দুই দিনের মধ্যে স্থানটি পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে এ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হোক, এটাই প্রত্যাশা। তবে এখানেই কাজ শেষ করার সুযোগ নেই। অভিজ্ঞতা বলে, শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লা পরিষ্কার করার পরও কিছুদিনের মধ্যে আবার সেখানে আবর্জনা জমতে শুরু করে। কারণ সমস্যাটি শুধু ময়লা অপসারণের নয়; এর সঙ্গে জড়িত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনসচেতনতা, নজরদারি এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।
দর্শনার প্রবেশমুখে একবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যদি আবার সেখানে ময়লা ফেলার সুযোগ থাকে, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই আগের পরিস্থিতি ফিরে আসবে। তাই পরিষ্কার করার পাশাপাশি ওই স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান, নিয়মিত নজরদারি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করতে হবে। বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে উৎপন্ন বর্জ্য কোথায়, কখন এবং কীভাবে সংগ্রহ করা হবে তার একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা থাকা জরুরি। শুধু রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার সংস্কৃতি বন্ধ করলেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের দায়িত্বও কম নয়। পৌর কর্তৃপক্ষ যতই উদ্যোগ নিক, মানুষ যদি যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলতে থাকে, তাহলে কোনো পরিচ্ছন্নতা অভিযানই স্থায়ী ফল দেবে না। তাই নাগরিকদেরও নিজেদের শহরকে নিজের ঘরের মতো পরিচ্ছন্ন রাখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। দর্শনা শুধু একটি পৌর শহর নয়; এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী জনপদ এবং প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের যাতায়াতের কেন্দ্র। ফলে শহরের প্রবেশমুখ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং শহরের মর্যাদার সঙ্গেও যুক্ত।
আমরা মনে করি, বর্তমান পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে একটি নিয়মিত ও টেকসই কর্মসূচিতে রূপ দিতে হবে। দর্শনার প্রবেশমুখে আবার যেন ময়লার স্তূপ গড়ে না ওঠে, সে জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে স্থায়ী পরিকল্পনা নিতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। আজ যে জায়গাটি ময়লার ভাগাড় থেকে পরিচ্ছন্নতার পথে ফিরছে, আগামী দিনেও যেন সেটি পরিচ্ছন্ন থাকে এটাই হওয়া উচিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কারণ পরিচ্ছন্ন শহর শুধু প্রশাসনের সাফল্য নয়; এটি নাগরিকের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিচ্ছবি।


