আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগদামুড়হুদায় কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস থামিয়ে ৮ দফা দাবি, রেলওয়ের আশ্বাস

দামুড়হুদায় কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস থামিয়ে ৮ দফা দাবি, রেলওয়ের আশ্বাস




দামুড়হুদা অফিস:

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার দাবিতে ৮ দফা দাবি তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও অবহেলিত অবস্থায় থাকা স্টেশনটিকে আধুনিকায়ন করে যাত্রীসেবার আওতায় আনার দাবিতে গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
দামুড়হুদা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ ও জয়রামপুর গ্রামবাসীর আয়োজনে জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা বলেন, একসময় গুরুত্বপূর্ণ এই রেলস্টেশনটি এলাকার মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, ট্রেনের বিরতি, টিকিটিং ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় স্টেশনটি কার্যত তার গুরুত্ব হারিয়েছে। মানববন্ধন থেকে জয়রামপুর স্টেশনকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের প্রথম দাবি, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনে সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি দিতে হবে। দ্বিতীয় দাবিতে স্টেশন মাস্টারসহ প্রয়োজনীয় জনবল পুনর্বহালের কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় দাবিতে স্টেশনের লুপ লাইন চালু এবং চতুর্থ দাবিতে টিকিটিং ব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম আধুনিকীকরণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়নের দাবিও জানানো হয়েছে। মানববন্ধনকারীরা বলেন, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তাই পুরোনো স্থাপনার ঐতিহ্য ও নকশা অক্ষুণ্ন রেখে একই আদলে নতুন করে হলঘর নির্মাণের দাবি জানানো হয়। এছাড়া পোড়াদহ-গোয়ালন্দঘাট রুটে চলাচলকারী শাটল ট্রেনটি দর্শনা পর্যন্ত বর্ধিত করার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো এবং এসব ট্রেনে বগির সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিও জানানো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সর্বশেষ দাবিতে বলা হয়, ভবিষ্যতে নতুন ট্রেন সংযোজনের পরিকল্পনা নেয়া হলে দর্শনা-চুয়াডাঙ্গা রুটের সব ট্রেনের রুটে জয়রামপুর স্টেশনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং এসব ট্রেনের জয়রামপুরে যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন চলাকালে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি জয়রামপুর স্টেশনে প্রায় পাঁচ মিনিট থামানো হয়। এ সময় মানববন্ধনকারীরা রেলওয়ের কর্মকর্তাদের কাছে তাদের ৮ দফা দাবি তুলে ধরেন। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রকৌশলী সাইদুর রহমান আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন। রেলওয়ে কর্মকর্তার আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা অল্প সময়ের মধ্যেই কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে দেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী, স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নাগরিক পিয়ার আলী, দামুড়হুদা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মমিনুল ইসলাম, ডাবলু এবং সাবেক সেনাসদস্য লাজিব আক্তার সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, জয়রামপুর রেলস্টেশন শুধু একটি যোগাযোগকেন্দ্র নয়, এটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। স্টেশনটিকে কার্যকর করা হলে দামুড়হুদার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও উন্নত রেলসেবার সুযোগ পাবেন। তাই শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জয়রামপুর রেলস্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ