নিজস্ব প্রতিবেদক:
সীমান্ত দিয়ে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর অংশ হিসেবে মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
গতকাল রবিবার চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)’র উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এ সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। মাইকিংয়ের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের পুশইন, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার ও অনুপ্রবেশের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার বন্ধে বিজিবির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। প্রচারকালে স্থানীয় জনগণকে বিশেষভাবে সতর্ক করে বলা হয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরিচিত কিংবা সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি, দল বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে তারা যেন নিজেরা কোনো ধরনের আইন হাতে তুলে না নেন। বরং বিষয়টি দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি বিওপিকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি পুশইনের শিকার হয়ে সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী সময়ে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণে বিজিবিকে সহযোগিতা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের আশঙ্কা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ অবস্থায় বিজিবির পক্ষ থেকে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হবে।
৬ বিজিবির পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির নিয়মিত টহল ও নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড নজরে এলে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করলে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা সহজ হবে। তিনি সীমান্তবাসীকে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে সীমান্তবাসীর সহযোগিতা বিজিবির কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে জনসচেতনতামূলক প্রচারসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।


