আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজজাতীয়লোডশেডিংয়ে পাঠ্যবই ছাপানো নিয়ে শঙ্কা, বিদ্যুৎ অফিসে এনসিটিবির চিঠি

লোডশেডিংয়ে পাঠ্যবই ছাপানো নিয়ে শঙ্কা, বিদ্যুৎ অফিসে এনসিটিবির চিঠি




খাসখবর ডেস্কঃ
বিদ্যুতের চলমান লোডশেডিংয়ের কারণে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো বই বিতরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেওয়ায় ছাপাখানা এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যন্ত ৬১৭টি বিষয়ের প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। ১৭ আগস্ট থেকে প্রাক-প্রাথমিকের বই ছাপানোর কাজ শুরু হয়। গতকাল রোববার শুরু হয়েছে প্রাথমিকের বই ছাপানো। সোমবার (৩১ আগস্ট) মাধ্যমিকের বই ছাপাতে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ৭০ দিনের মধ্যে পাঠ্যবই মুদ্রণের কথা।

এবার ডিসেম্বরে নতুন বই দিতে চায় সরকার। এনসিটিবির লক্ষ্য—৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই ছাপানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পাঠিয়ে দেওয়া।

তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো বই ছাপাতে বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে, রাজধানীর বাইরের প্রেসগুলো বেশি সমস্যায় পড়ছে। ফলে ঠিক সময়ে বই ছাপানো ও বিতরণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ছাপাখানা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির নির্বাহী সদস্য ও বর্ণরেখা প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্বাধিকারী মোর্শেদ আজম বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে প্রেসের কাজ ঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তি অনুযায়ী সময়ে বই ছাপানো শেষ করতে পারবে বলে মনে হয় না।’

তিনি বলেন, ‘প্রিন্টিং প্রেসগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় থাকে। তাই সরকার যদি ওই এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি বিবেচনা করে, তাহলে ভালো হয়।’

এনসিটিবি সূত্রমতে, বই মুদ্রণের কাজ রাজধানীর বাইরেও করা হয়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, এমনকি তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ আসছে। ছোট ছোট ছাপাখানায় জেনারেটরও নেই। বড় ছাপাখানায় থাকলেও খরচ পড়ে যায় বেশি।

এসব কারণে গত ২৩ আগস্ট বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এনসিটিবির সচিব অধ্যাপক শাহ্‌ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার কার্যক্রম। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। বিষয়টি অতি জরুরি।’

রাজধানীর বাইরে সাভার-আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, লক্ষ্মীপুর, মানিকগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বগুড়াসহ কয়েকটি জেলার ছাপাখানায় পাঠ্যবই মুদ্রণ হয়। এসব জেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজারসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর এই চিঠি দেওয়া হয়। এর অনুলিপি বিদ্যুৎ বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদেরও পাঠানো হয়েছে।

বর্তমান সরকারের ছয় মাসপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

যদিও এনসিটিবি সূত্র বলছে, সময়মতো বই ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়ার পরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বই ছাপা ও বিতরণে নানা জটিলতার কারণে বিগত কয়েক বছরে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই তুলে দেওয়া যায়নি। চলতি শিক্ষাবর্ষে শতভাগ বই সরবরাহ করতে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লেগে যায়। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে সব বই সরবরাহ করতে প্রায় তিন মাস অতিরিক্ত সময় লেগেছিল।

এনসিটিবির সচিব অধ্যাপক শাহ্‌ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌস বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে গ্রীষ্মের ছুটির আগেই যেন বই পেয়ে যায়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কিন্তু বিদ্যুতের চলমান পরিস্থিতি যদি ছাপাখানায় অব্যাহত থাকে, তাহলে সেটি কঠিন হয়ে পড়বে। ছাপাখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ