নিজস্ব প্রতিবেদক:
সন্তানদের সাঁতার শেখাতে শুধু পরামর্শ নয়, নিজেই উদাহরণ তৈরি করলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। নিজের ছেলে-মেয়েকে নিয়ে নির্ধারিত ফি দিয়ে চুয়াডাঙ্গা শিশু-কিশোর সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আলাউদ্দিন আল আজাদও নির্ধারিত ফি দিয়ে ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার সকাল আটটার দিকে চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনসংলগ্ন পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকায় অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা শিশু-কিশোর সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সপরিবারে গিয়ে ভর্তি হন জেলা প্রশাসক। সন্তানদের ভর্তি করানোর পর সুইমিং পুলে নামার আগে তিনি জেলার অভিভাবকদের উদ্দেশে সাঁতার শেখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে সাঁতার শুধু পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যই নয়, জীবন রক্ষার জন্যও অপরিহার্য। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের লেখাপড়ার পাশাপাশি জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলোও শেখানো জরুরি। তার ভাষায়, আপনাদের সন্তানকে যত লেখাপড়াই করান না কেন, সাঁতার না শিখলে সেই লেখাপড়ার কোনো মূল্য নেই। সাঁতার না জানা মানুষের অসহায়ত্ব বোঝাতে বহুল প্রচলিত সেই গল্পের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিক্ষিত মানুষ জ্ঞান ও বিদ্যায় অনেক এগিয়ে থাকলেও পানিতে পড়ে গেলে সাঁতার না জানার কারণে তার সেই শিক্ষাও অনেক সময় কোনো কাজে আসে না। তাই সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি তাদের জীবন সুরক্ষার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সাঁতার শেখার ব্যয় নিয়েও অভিভাবকদের বাস্তবমুখী হিসাব দেন লুৎফুন নাহার। তিনি বলেন, সন্তানদের পড়াশোনার জন্য অভিভাবকেরা প্রতি মাসে গৃহশিক্ষক বা কোচিং শিক্ষকের পেছনে এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেন। অথচ সন্তানের জীবন রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা সাঁতার শেখাতে মাসে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় করলেই প্রশিক্ষণ নেয়া সম্ভব। তিনি বলেন, মাত্র এক বা দুই মাসেই একটি শিশু পুরোপুরি সাঁতার শিখে নিতে পারে। জেলা প্রশাসক বলেন, সাতার শুধু একটি খেলাধুলা নয়; এটি এমন একটি জীবনদক্ষতা, যা যেকোনো সময় একজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে। বিশেষ করে নদী, খাল, বিল ও পুকুরবেষ্টিত বাংলাদেশের বাস্তবতায় শিশুদের সাঁতার শেখানোর গুরুত্ব আরও বেশি। চুয়াডাঙ্গার অভিভাবকদের দ্রুত সন্তানদের সাঁতার শেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে পরিবার থেকেই সচেতনতা শুরু করতে হবে। সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠানোর পাশাপাশি তাকে এমন কিছু মৌলিক দক্ষতাও শেখাতে হবে, যা বিপদের মুহূর্তে নিজের জীবন রক্ষায় কাজে আসতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা শিশু-কিশোর সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শিশু-কিশোরদের নিয়মিত সাতার প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ ও আহ্বানের মধ্য দিয়ে জেলার আরও বেশি পরিবার তাদের সন্তানদের সাঁতার শেখাতে এগিয়ে আসবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


