আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজআইন আদালতস্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে রহম আলী (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রহম আলী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে।
আদালতের নথি ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে রহম আলীর সঙ্গে আলেয়া বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান চাঁন মিয়া, সুরুজ মিয়া, লিপছিয়া ও হালিমা। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, আলেয়াকে বিয়ের আগে রহম আলীর আরও দুটি বিয়ে হয়েছিল। তিনি মাদকাসক্ত ও দুশ্চরিত্র ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় পারিবারিক কারণে স্ত্রীকে মারধর করতেন। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা তাকে ভয় করে চলতেন। ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর রাদে খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রহম আলী ও তার স্ত্রী আলেয়া একই ঘরের মেঝেতে খেজুরের পাটির ওপর বিছানা করে ঘুমিয়ে ছিলেন। একই ঘরের উত্তর পাশে কাঠের চৌকিতে ঘুমিয়ে ছিল তাদের দুই মেয়ে লিপছিয়া ও হালিমা। পরদিন ১৫ নভেম্বর ভোর সাড়ে চারটার দিকে দরজা খোলার শব্দে ঘুম ভাঙে মেয়ে লিপছিয়ার। এ সময় সে তার বাবা রহম আলীর হাতে রক্তমাখা একটি গাছি দা দেখতে পায়। এ সময় রহম আলী দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যান। এরপর চৌকির নিচে তাকিয়ে লিপছিয়া মায়ের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায়। মায়ের গলা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সে চিৎকার শুরু করে। লিপছিয়ার চিৎকারে তার ভাই চাঁন মিয়া, চাঁনের স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ভাই সুরুজ মিয়া ও সুরুজের স্ত্রী চাঁদনী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা আলেয়া বেগমের গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশী মহর আলী, জিয়ার, খদেসহ স্থানীয় আরও লোকজন সেখানে জড়ো হন।
এ ঘটনায় আলেয়ার ছেলে চাঁন মিয়া বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পারিবারিক কলহের জেরে পিতা রহম আলী পরিকল্পিতভাবে ধারালো গাছি দা দিয়ে তার মা আলেয়া বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহসিন আলী। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক মহসিন আলী আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেন, ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর মামলাটি রেকর্ড হওয়ার পর তিনি তদন্তভার পান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খসড়া মানচিত্র ও সূচিপত্র তৈরি করেন এবং বাদী ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। তদন্তের সময় ঘটনাস্থল থেকে আলেয়ার বিছানার রক্তমাখা পাটি, বালিশ, মশারি, কাপড়ের বিভিন্ন অংশ এবং তার পরনের লাল রঙের পেটিকোট, সবুজ রঙের ব্লাউজ ও ছাই রঙের শাড়ির অংশবিশেষ জব্দ করা হয়। পরে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, রহম আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তার দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আবেদন করা হলে তিনি বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্যপ্রমাণ, ঘটনাপরিস্থিতি এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। পরে ২০১৬ সালের ৪ মার্চ রহম আলীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১৩ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণে গতকাল মঙ্গলবার মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস। রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় রহম আলীকে তার স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায়ে জব্দ করা আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত ও কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাঈদ মাহমুদ ডালিম বলেন, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, নথিপত্র ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দেয়া এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
চুয়াডাঙ্গা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবু বলেন, অপরাধের ধরন ও ভয়াবহতা বিবেচনায় রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করা হয়েছিল। তবে আসামির বয়স বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞ বিচারক মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। আদালতের এ রায়ে মামলার বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ