দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদা উপজেলার সুবলপুর গ্রামের মাঝপাড়ায় জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ দুজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বসতঘরে ভাঙচুর চালানো এবং জমিতে রাখা বালু, ইট ও পাটখড়ি নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় সুবলপুর গ্রামের মাঝপাড়ার বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম (৬০) বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও সাত-আটজনের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সুবলপুর মাঝপাড়ার জাইদুল ইসলাম (৪০), নবাব আলী (৪০), মিল্টন (৪৫), মাসুদা (৪৩) ও লিটন হোসেন (৩৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রেজাউল ইসলামের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গতকাল শুক্রবার দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে রেজাউল ইসলামের ছোট ভাই হারুন অর রশীদ (৪০) নিজেদের জমিতে পাটখড়ির গাদা করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ধারালো দা, লোহার রড, শাবল, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম নিয়ে সেখানে গিয়ে তাকে গালিগালাজ করতে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হারুন অর রশীদ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে একজন অভিযুক্ত ধারালো দা দিয়ে তার মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেন। হারুন হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করলে তিনি আঘাত থেকে রক্ষা পেলেও মুখের বাঁ চোয়ালে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে আরও দুজন তাকে শাবল ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। হারুনকে রক্ষা করতে তার ভাবি ও রেজাউল ইসলামের স্ত্রী নুরুন নাহার এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাকে শাবল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথা, ঘাড়, পিঠ ও পায়ে আঘাত করা হয়। পরে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেয়া হলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার ডান পায়ের পাতায় লাগে। এতে তিনি কাটা ও রক্তাক্ত জখম হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বসতঘরে ভাঙচুর চালান। তারা টিনের চালা ভেঙে মাটিতে ফেলে দেন। এছাড়া জমিতে রাখা এক ট্রাক মোটা বালি, পাঁচ হাজার ইট ও ৩০০ আঁটি পাটখড়ি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ঘরবাড়ি ভাঙচুরে আরও প্রায় ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


