দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদায় দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ২৩ বস্তা চুল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার কোষাঘাটা মেইন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। চুল ব্যবসায়ীদের দাবি, ছিনতাই হওয়া চুলের বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। ঘটনার পর পিকআপ ভ্যানের চালক ও কার্পাসডাঙ্গা চুল প্রসেসিং সমিতির ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গার এস আর পরিবহন পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস থেকে নিজস্ব পিকআপ ভ্যানে করে ২৩ বস্তা প্রসেস করা চুল নিয়ে কার্পাসডাঙ্গার দিকে যাচ্ছিলেন চালক শহিদ ও ম্যানেজার ছানোয়ার। পিকআপটি দামুড়হুদার কোষাঘাটা এলাকায় পৌঁছালে মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরা ৭ থেকে ৮ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি সামনে এসে গাড়িটির গতিরোধ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রের মুখে চালক ও ম্যানেজারকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও গাড়ির চাবি কেড়ে নেয়া হয়। পরে তাদের মোটরসাইকেলে তুলে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় দলের একজন পিকআপ ভ্যানটি নিয়ে পুরাপাড়ার দিকে চলে যান। পরে পুরাপাড়ার একটি নির্জন মাঠে পিকআপটি নিয়ে গিয়ে ২৩ বস্তা চুল অন্য একটি গাড়িতে তুলে নেয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। চুল নেয়ার পর পিকআপ ভ্যানটি আবার আগের স্থানে নিয়ে এসে চালক ও ম্যানেজারকে গাড়িটি নিয়ে চলে যেতে বলা হয়। এরপর চালক শহিদ ও ম্যানেজার ছানোয়ার পিকআপ ভ্যানটি নিয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় যান। তাদের কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ হলে দুজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
কার্পাসডাঙ্গার চুল ব্যবসায়ী ইসমাইল বলেন, ২৩ বস্তা চুল নিয়ে পিকআপটি চুয়াডাঙ্গা থেকে আসছিল। কোষাঘাটা এলাকায় পৌঁছালে ৭-৮ জনের একটি দল গাড়িটি থামিয়ে চালক ও ম্যানেজারকে জিম্মি করে। পরে পিকআপটি নিয়ে পুরাপাড়ার নির্জন মাঠে গিয়ে চুলগুলো অন্য গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, চুলগুলোর মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। দ্রুত চুল উদ্ধার করা না হলে ব্যবসায়ীরা বৃহৎ কর্মসূচি পালন করবেন।
দামুড়হুদা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রভাষ কুমার বসু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কোষাঘাটা নামক স্থান থেকে ২৩ বস্তা চুল কে বা কারা নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পিকআপের চালক ও ম্যানেজারকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার চেষ্টা চলছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।
দিনদুপুরে ব্যস্ত সড়কে অস্ত্রের মুখে পিকআপ থামিয়ে বিপুল পরিমাণ চুল নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এটি প্রকৃতপক্ষে ডাকাতি, ছিনতাই নাকি পরিকল্পিতভাবে চুল সরিয়ে নেয়ার ঘটনা তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।


