গাংনী অফিস:
মেহেরপুরের গাংনী বাজারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় একটি বিরিয়ানি হাউস থেকে ৬০০টির বেশি বোতল কেওড়া জল এবং একটি ওষুধের দোকান থেকে প্রায় চার বস্তা ওষুধ জব্দ করা হয়। গতকাল সোমবার গাংনী বাজারে এ তদারকি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।
তদারকি সূত্রে জানা যায়, গাংনী বাজারের নান্না বিরানি হাউজে খাবার তৈরিতে কেওড়া জল ব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদারকি চালানো হয়। সেখানে বিপুল পরিমাণ কেওড়া জলের বোতল পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ৬০০টির বেশি বোতল কেওড়া জল জব্দ করা হয়। জব্দ করা এসব কেওড়া জল ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনায় নান্না বিরানি হাউজকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তদারকিকালে মেসার্স সোহাগ মেডিসিন কর্নারেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের চিকিৎসকদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা প্রায় চার বস্তা ওষুধ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকদের জন্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা এসব ওষুধই বিভিন্ন দোকানে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রায় চার বস্তা ওষুধ জব্দ করা হয়। অন্যদিকে, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় কার্নিভাল রেস্টুরেন্টকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তদারকিতে মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য ও সঠিক মানের পণ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত ওষুধ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি এবং খাদ্যপণ্যে অনিয়মের মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিয়াজ মাহমুদ, ক্যাবের গাংনী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম, মেহেরপুর জেলা পুলিশের একটি দল এবং র্যাব-১২-এর একটি দল।


