নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলবাজারে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভূমিমালিকদের মধ্যে আরও ৮৭ লাখ ৯০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রেলবাজার এলাকার কালুর হোটেলের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০ জন ভূমিমালিকের হাতে এসব চেক তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ওভারপাস নির্মাণকাজের ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের ঠিকাদারকে তার সামনে হাজির করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের উন্নয়নকাজের জন্য যখন কোনো জমি প্রয়োজন হয়, তখন আইন অনুযায়ী তা অধিগ্রহণ করা হয়। সেই অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবেই এসব চেক দেয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো জমি থেকে যে আয় হতো, অধিগ্রহণের পর সেই আয় আর থাকে না। আবার কারও ক্ষেত্রে একটি দোকানই হতে পারে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া সঠিকভাবে যেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তা করা যায়। চেক বিতরণের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা হয়রানি যেন না হয়, সে বিষয়েও কঠোরভাবে নজর রাখা হয়েছে। লুৎফুন নাহার আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে দ্রুত চেক তুলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ কাজে কিছুটা সময় লাগলেও ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকেরা ধৈর্য ধরে জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন। তাদের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ওভারপাস নির্মাণকাজের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, আমি আসতে আসতে দেখলাম, ওভারপাস নির্মাণের কাজ খুবই ধীরগতিতে এগোচ্ছে। আমি এই ওভারপাস নির্মাণের ঠিকাদারকে দেখতে চাই। আমি চাই, তাকে সামনে নিয়ে আসা হোক এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওভারপাস নির্মাণ সম্পন্ন হোক।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রেলবাজার রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ১ দশমিক ৪২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ জন ভূমিমালিককে এদিন মোট ৮৭ লাখ ৯০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক দেয়া হয়। চেক গ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ফার্মপাড়ার রেহেনা খাতুন, জোয়ার্দ্দারপাড়ার সানিউল নেওয়াজ ও রোজী বেগম, দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর ইউনিয়নের আমরিন আক্তার, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফারুক হাসান, ময়মনসিংহের গোহাইলকান্দি উপজেলার গোলাপজান রোডের সামিউল ইসলাম, আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের তাসলিমা বেগম, ঢাকার সাভারের ধলপুর-সিকদারবাগের আকলিমা খাতুন, রাজশাহীর হড়গ্রাম বাজারের সেলিমা খাতুন এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার রেলপাড়ার গোলাম জাকারিয়া জোয়ার্দ্দার। এর আগে গত ২৩ জুলাই রেলবাজারে ভূমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আরও নয়জন ভূমিমালিকের মধ্যে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৯ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়েছিল।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রেলবাজারে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিক, ভাড়াটিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত মিলিয়ে মোট ১৯ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম আশিস মোমতাজ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাদিকুর রহমানসহ জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


