জীবননগর অফিস:
জীবননগর উপজেলার আলীপুর গ্রামে আধ্যাত্মিক সাধক হযরত রাখাল শাহের ৩৯তম ওরশ ও ঐতিহ্যবাহী মেলা ঘিরে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, জিকির-আজগার, ইবাদত-বন্দেগি ও সাধুসঙ্গের মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে মুখর হয়ে উঠেছে মাজার প্রাঙ্গণ। ওরশকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত, অনুসারী ও দর্শনার্থীরা আলীপুরে আসতে শুরু করেছেন। প্রতিবছরের মতো এবারও ১৫ ভাদ্র আলীপুর গ্রামের রাখাল শাহের মাজার প্রাঙ্গণে বসবে এই ঐতিহ্যবাহী ওরশ ও মেলা। আধ্যাত্মিক সাধনা ও লোকজ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকেরা।
মাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওরশ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে সাজসজ্জার কাজ চলছে। ভক্তদের বসা, ইবাদত-বন্দেগি ও সাধুসঙ্গের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জিকির-আজগার ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে মাজার চত্বর ইতোমধ্যে অন্যরকম আবহ তৈরি করেছে। আয়োজকেরা জানান, এবার ওরশে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে তারা আশা করছেন। আগত ভক্তদের আপ্যায়নের জন্য প্রায় ৩০ হাজার মানুষের তবারক তৈরির প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ জন্য দুটি গরু জবাই করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওরশের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ভক্তদের স্বাচ্ছন্দ্য ও আপ্যায়নের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়, ওরশকে কেন্দ্র করে এবারও বসছে জমজমাট লোকজ মেলা। মেলায় থাকছে নানা ধরনের দোকানপাট ও বিনোদনের আয়োজন। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য বসানো হয়েছে নাগরদোলা। থাকছে মৃত্যুকূপসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় আয়োজন। ফলে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি মেলাকে ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ।
মেলা প্রাঙ্গণে লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ঢাকার জনপ্রিয় বাউল শিল্পী মুন্নি সরকার ও তার দল গান পরিবেশন করবেন। বাউলগানের সুরে মেলা প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। আধ্যাত্মিক সাধনা, বাউলসংগীত ও গ্রামীণ লোকজ বিনোদনের সমন্বয়ে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে তাদের প্রত্যাশা। বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। মেলা কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থাকবে নজরদারি।
আয়োজকেরা বলেন, ওরশে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভক্ত-অনুসারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। মাদকসহ সব ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর রাখাল শাহের ওরশ উপলক্ষে আলীপুরে মানুষের ঢল নামে। কয়েক দিনের জন্য মাজার ও এর আশপাশের এলাকা পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনকেন্দ্রে। ধর্মীয় অনুভূতি, সাধুসঙ্গ, বাউলসংগীত এবং গ্রামীণ মেলার ঐতিহ্য একসঙ্গে ধারণ করে এই আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় আবহ আর বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের এই অনন্য মেলবন্ধনে এবারও আলীপুরের রাখাল শাহের মাজার প্রাঙ্গণ পরিণত হবে এক মহামিলনমেলায় এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজক ও স্থানীয় মানুষের। তাদের আশা, শান্তি, সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিকতার বার্তা নিয়ে এবারের ৩৯তম ওরশও ভক্ত-অনুরাগীদের মনে আলাদা আবেশ ছড়াবে।


