নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় জেলা ডিসি সাহিত্য মঞ্চে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সাইফুল ইসলাম মিলন। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় সভায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যচর্চা, কবিতা, কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস ও অন্যান্য সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তিনি শুধু একজন কবি নন, তিনি ছিলেন সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্নদ্রষ্টা। তার সাহিত্য ও সংগীত মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা দেয়। তিনি বলেন, নজরুলের গান, কবিতা ও সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে। এ ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাদের নজরুলের আদর্শ ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে পরিচিত হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা শুধু পুরস্কার অর্জনের জন্য নয়, নজরুলের সৃষ্টিকে হৃদয়ে ধারণ করার চেষ্টা করবে। তাদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের সংস্কৃতিমনা, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে উঠবে। কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে আরও গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হোক এটাই প্রত্যাশা।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারেক-উজ-জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাংবাদিক কামরুজ্জামান সেলিম, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা বিভিন্ন গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে নজরুলের সৃষ্টির বৈচিত্র্য ও আবেগময় আবেদন ফুটে ওঠে। আয়োজকেরা জানান, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সংগীতের প্রতি আগ্রহ তৈরির পাশাপাশি তার সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার দর্শন ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দামুড়হুদায় নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭ উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বেলুন উড়িয়ে উপজেলা প্রশাসন এর উদ্যোগে কবিতা আবৃত্তি, রচনা লেখা, চিত্রাঙ্কন, নজরুল সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে। উদ্বোধন শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন এর সভাপতিত্বে পরিষদ মিলায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি মানবতা, প্রেম ও সাম্যের কবি। নজরুল বর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে তার অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডাঃ মোহাঃ মশিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়কারী হাবীবুর রহমান বুলেট, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি ও নজরুল স্মৃতি সংসদের সভাপতি শামসুল হক, শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান, একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পীরা নজরুলের কালজয়ী সংগীত ও কবিতা পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। আয়োজকরা জানান, নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭ উপলক্ষে বছরব্যাপী এ ধরনের প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংস্কৃতিচেতনা ও মানবতাবাদ নিয়ে স্মরণসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় আলমডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক সংসদের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি আতিক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাসাসের সভাপতি কবি ও সাহিত্যিক আনোয়ার রশীদ সাগর। প্রধান আলোচক ছিলেন আলমডাঙ্গা নিমগ্ন পাঠাগারের পরিচালক শায়খ ইমদাদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক সংসদের উপদেষ্টা নাশির উদ্দিন এ্যাটম এবং সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা আশরাফুল হক লুলু।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক খাইরুল ইসলাম, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক সংসদের সহসভাপতি তবিরুর রহমান, মাহাফুজুর হক তুষার, কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল হক পান্না, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন, দপ্তর সম্পাদক তাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক সাহাবুল হক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুশীল কর্মকার, ক্রীড়া সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, মানবাধিকার সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিল, ইউনুস আলী মাস্টার, ওস্তাদ রেজাউল করিম, কমলকান্তি চক্রবর্তী ও কামাল হোসেনসহ অনেকে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি আনোয়ার রশীদ সাগর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যচেতনা, সাম্য ও বিশ্বমানবতার দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুলের গান ও কবিতা পরিবেশন করা হয়।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান এবং জামায়াত নেতা জাব্বারুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, জেলা জাসাসের আহ্বায়ক বাকা বিল্লাহসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, সাম্য ও মানবতার চেতনা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি নজরুলের জীবন, দর্শন ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে তাদের আগ্রহী করে তুলতেই দেশব্যাপী এ আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নজরুল বিষয়ক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।


