আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশ্ন নিরাপদ সাংবাদিকতার📰গাংনী ও মুজিবনগরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, আটক ২📰আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে এখন বিদ্যুৎ প্রকল্প📰জীবননগরে রাতের আঁধারে দুই কলাবাগান কলা চুরি📰চুয়াডাঙ্গায় দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটির শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত 📰চুয়াডাঙ্গার আজমুলকে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ📰সীমান্তে ঘুরে রাতের আঁধারে ফিরলেন শিক্ষকেরা📰চুয়াডাঙ্গা উপশম নার্সিং হোমে অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর📰আলমডাঙ্গাকে হারিয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা📰আলমডাঙ্গায় ট্রাক উদ্ধার , এজাহারে আসামি ও গাড়ির তথ্য বদল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোম পেজজাতীয়৬৪ জেলা ও ৮ মহানগরের বিচারকদের আবাসিক ভবন নির্মাণে সরকারের মাস্টারপ্ল্যান

৬৪ জেলা ও ৮ মহানগরের বিচারকদের আবাসিক ভবন নির্মাণে সরকারের মাস্টারপ্ল্যান




ঢাকা অফিস:

ভাড়া বাসার অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাঝুঁকি থেকে বিচারকদের বের করে আনতে দেশব্যাপী আবাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ৬৪ জেলা ও আট মহানগরে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য বহুতল আবাসিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করতে জেলা ও দায়রা জজদের কাছে তথ্য চেয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিচারকদের নিরাপত্তা, আবাসনসংকট নিরসন এবং সরকারি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি জেলা ও মহানগরে ১০ থেকে ১৫ তলাবিশিষ্ট আধুনিক আবাসিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে, যেখানে একসঙ্গে বহু বিচারকের আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের সব জেলা ও মহানগর আদালত এলাকায় জমি খোঁজছে আইন মন্ত্রণালয়। জমির তথ্য সংগ্রহের পর প্রকল্পের ব্যয়, নকশা ও বাস্তবায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই জেলা পর্যায়ে বিচারকদের আবাসনসংকট রয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারি কোয়ার্টারের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হয়নি। নতুন এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু আবাসনসংকটই কমবে না, বিচারকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশও আরও শক্তিশালী হবে।
আইন ও বিচার বিভাগের পরিকল্পনা শাখা থেকে সম্প্রতি সব জেলা ও দায়রা জজদের পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কর্মরত বিচারকদের বড় একটি অংশকে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। অধিকাংশ জেলায় পর্যাপ্ত সরকারি আবাসন না থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে সম্পত্তি ও সংবেদনশীল মামলার বিচারকাজ পরিচালনার কারণে বিচারক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, প্রতিটি জেলা ও মহানগরে গড়ে ৩০ থেকে ৫০ জন বিচারক কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু তাদের জন্য সমন্বিত আবাসন সুবিধা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে সরকারি চাকরিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও বেশির ভাগ বিচারককে ব্যক্তিগতভাবে বাসা ভাড়া করে থাকতে হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবাসিক কমপ্লেক্সগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি, নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ এবং সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বহুতল ভবন নির্মাণের চিন্তা করা হচ্ছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে জেলা ও দায়রা জজদের নিজ নিজ আদালত প্রাঙ্গণ, পুরোনো কোর্ট ভবন কিংবা মুন্সেফ কোর্ট এলাকায় থাকা খালি জমির তথ্যের সঙ্গে জায়গার নকশা পাঠাতে বলা হয়েছে। কোথাও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে আদালত ভবনের ১ কিলোমিটারের মধ্যে অধিগ্রহণযোগ্য জমির সন্ধান দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। সব জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও গণপূর্ত বিভাগকে নির্বাচিত স্থানের ডিজিটাল সার্ভে করতে অনুরোধ করা হয়েছে ওই চিঠিতে।
সরকারের এ উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান সাজু বলেন, বিচারকদের জন্য আবাসিক কমপ্লেক্স নির্মাণ একটি অত্যন্ত ভালো ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। নিরাপদ বাসস্থান ছাড়া একজন বিচারকের পক্ষে স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করা কঠিন। একসঙ্গে আবাসনের ব্যবস্থা হলে বিচারকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়বে, যাতায়াতের সুবিধা হবে এবং নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সহজ হবে। তিনি বলেন, বেসরকারি বাসায় থাকলে নিরাপত্তাঝুঁকি, তদবিরের চেষ্টা এবং বিভিন্ন ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকে। তাই বিচারকদের জন্য সরকারি আবাসন নিশ্চিত করা দীর্ঘদিনের দাবি। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিচারকদের আবাসন ও নিরাপত্তা সমস্যার কার্যকর সমাধান হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ